শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

SW News24
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পাখির রাজা ফিঙে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পাখির রাজা ফিঙে
১২২ বার পঠিত
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাখির রাজা ফিঙে

---কালো ফিঙে পাখিটি তার অসাধারণ সাহসিকতা, ক্ষিপ্র গতি এবং আক্রমণাত্মক স্বভাবের জন্য প্রকৃতিতে পাখির রাজা বা পক্ষিরাজ হিসেবে পরিচিত। আকারে ছোট লেজসহ মাত্র ২৮-৩১ সেন্টিমিটার হলেও এরা নিজেদের এলাকার সুরক্ষায় চিল, বাজ, কাক বা শকুনের মতো বিশাল শিকারি পাখিদের তাড়া করে ঠুকরে দেয়।

ফিঙে মূলত এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের অত্যন্ত পরিচিত ও চটপটে একটি ছোট পাখি। কালচে চকচকে পালক ও কাঁককাকৃতির চেরা লেজ এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এরা নির্ভীক ও আক্রমণাত্মক স্বভাবের জন্য পরিচিত, যার কারণে এদের অনেক সময় রাজকীয় কাক বা পাখিদের রাজা বলা হয়।

ফিঙে তার শরীরের চেয়ে বহুগুণ বড় পাখি ঈগল, চিল বা কাককে নিজেদের এলাকা থেকে তেড়ে পালাতে বাধ্য করে। অন্য কোনো শিকারী পাখি এদের বাসস্থানের আশেপাশে এলে তারা নির্ভীকভাবে ডাইভ দিয়ে আক্রমণ করে। প্রজনন মৌসুমে নিজের বাসার সীমানায় কোনো শত্রু পাখিকে এরা একদমই সহ্য করে না। অন্যান্য ছোট পাখিরা ফিঙের এই সুরক্ষার জন্য প্রায়শই ফিঙের বাসার কাছাকাছি নিজেদের বাসা তৈরি করে থাকে।

ফিঙে গ্রামের পরিচিত পাখি। এরা বিভিন্ন স্বরে ডাকে। এ দেশে ফিঙে পাখিকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। এ পাখিকে অঞ্চলভেদে হ্যাচ্ছা পাখি বলে ডাকে। এদের বিচরণ ফসল ক্ষেত, মাঠে-ঘাটে। ফিঙে পাখি মানুষের কাছাকাছি উড়ে বেড়াতে পছন্দ করে। এরা পরিবেশবান্ধব পাখি।

কৃষকের অকৃত্রিম বন্ধুফিঙে পাখি পরিবেশবান্ধব ও কৃষকের পরম বন্ধু। এরা ধানক্ষেতের ক্ষতিকর মাজরা পোকা, ফড়িং ও বিভিন্ন উড়ন্ত পোকা খেয়ে বেঁচে থাকে। একটি ফিঙে প্রতিদিন অনেক ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।

ফিঙে পাখিকে ফসলের অতন্দ্র প্রহরী বলা হয়। খুব দ্রুত নিজেদের খাবার সংগ্রহ করতে পারে। এরা প্রতিদিন গড়ে ২৫-২৮টি ক্ষতিকর মাজরা পোকা, ফড়িং ও পঙ্গপাল খেয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। কৃষকরা তাই ফসলের মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেন, যেন ফিঙে পাখি সেখানে বসে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ শিকার করতে পারে।

ফিঙের পুরো শরীর কুচকুচে কালো, রোদের আলোয় যা নীলাভ আভা ছড়ায়। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ইংরেজি ওয়াই অক্ষরের মতো দু’ভাগে বিভক্ত লম্বা লেজ। ফিঙে চমৎকার শিস দেয়। শিস বেশ মিষ্টি। এরা খুব চমৎকার শিস দিতে পারে এবং অন্য পাখির ডাক হুবহু নকল করতে পারদর্শী। তরঙ্গায়িত ভঙ্গিতে উড়তে উড়তে ফিঙে শিস দিতে দিতে আকাশ-বাতাস মাতাল করে তোলে।





মুক্তমত এর আরও খবর

শিশুদের জন্য জনপ্রিয় টিভি কার্টুন মিনা শিশুদের জন্য জনপ্রিয় টিভি কার্টুন মিনা
পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য
পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে
সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা; সাধারণ সাংবাদিকরা তখন ঝুঁকিতে সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা; সাধারণ সাংবাদিকরা তখন ঝুঁকিতে
ভারতীয় কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন নজরুল ভারতীয় কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন নজরুল
সুযোগসন্ধানী না হয়ে সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি সুযোগসন্ধানী না হয়ে সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি
বৃষ্টির পর সন্ধ্যায় মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা ডানাওয়ালা পোকা বৃষ্টির পর সন্ধ্যায় মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা ডানাওয়ালা পোকা

আর্কাইভ