মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বর্ষায় কদম ফুল প্রকৃতি রাঙিয়ে তুলেছে
বর্ষায় কদম ফুল প্রকৃতি রাঙিয়ে তুলেছে
কদম ফুল হলো বর্ষাকালের চিরন্তন প্রতীক এবং প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি, যা তার গোলাকার রূপ এবং মনমাতানো সুবাসের জন্য বাংলার মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে কদম ফুল এক বিশেষ ভালোবাসার নাম।
বর্ষার রূপসী কদম ফুল তার গোল বলের মতো আকার, সাদা-হলুদ মেশানো স্নিগ্ধ রঙ আর মিষ্টি সুবাসে প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। এটি বহু ক্ষুদ্র ফুলের একটি চমৎকার সমাহার, যা বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিতে সতেজতা ও আনন্দের জোয়ার আনে।
বর্ষার দূত নামে পরিচিত কদম ফুল বাংলার প্রকৃতিতে এক অনন্য মাধুর্য নিয়ে আসে। আষাঢ়ের টুপটাপ বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনের সাথে সাথে গাছে গাছে ফুটে ওঠে গোল গোল হলদে-সাদা রঙের এই ফুল, যা ভিজিয়ে দেয় প্রতিটি বাঙালির মন। কদম ছাড়া বর্ষা যেন একেবারেই বেমানান। এ জন্য কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত।
বর্ষার সঙ্গে কদমের সম্পর্ক নিবিড়। বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কদম। এই ফুল যেন বর্ষার দূত। বর্ষার বাতাসে ভেসে আসা কদমের গন্ধ মনকে আকুল করে তোলে। বর্ণে, গন্ধে এ গাছটি বাঙালির খুব প্রিয়।
বর্ষা কালের বাহারি ফুলের রানী কদম ফুল সে তো সবারই চেনা জান। গাছে গাছে সবুজ পাতার ডালে গোলাকার মাংসল পুষ্পাধার। আর তার থেকে বের হওয়া সরু হলুদ পাপড়ির মুখে সাদা অংশ কদমকে সাজিয়ে তুলেছে ভিন্ন ভাবে। গোলাকার হলদে-সাদা মিশ্রিত ফুলটি দেখতে যেন ভোরের উষা।
বর্ষার রানি কদম ফুল আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতেই প্রকৃতিকে এক অনন্য স্নিগ্ধতায় রাঙিয়ে তোলে। মেঘলা আকাশ, রিনিঝিনি বৃষ্টি আর সবুজের বুকে সোনালী-সাদা গোল বলের মতো ফুটে থাকা কদম যেন বাঙালি সংস্কৃতির এক চিরন্তন রূপ। বর্ষার মেঘের সঙ্গে মিতালি বলেই এর আরেক নাম মেঘাগমপ্রিয়। আর নারীর সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা করে অনেকেই বলে ললনাপ্রিয়। এ ছাড়াও স্থান কাল পাত্র ভেদে বিভিন্ন নামেও কদমের পরিচিতি রয়েছে। কদমের অন্যান্য নাম- নীপ, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবলণ্ডভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, ললনাপ্রিয়, সুরভি, সিন্ধুপুষ্প ইত্যাদি। আমাদের ঐতিহ্য ও সাহিত্যে কদম গাছ ও ফুল ২ হাজার বছরের পুরোনো।
আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের রূপসী প্রকৃতিতে কদম ফুল হলো বর্ষার আসল রূপ ও প্রাণের প্রতীক। গোল বলের মতো দেখতে সাদা ও হলুদের ছোঁয়া মেশানো এই সুগন্ধি ফুলটি প্রকৃতিপ্রেমিক ও কবিদের মনে গভীর রোমান্টিকতার সৃষ্টি করে, যা ছাড়া বাঙালির বর্ষাকাল অসম্পূর্ণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিক লেখকদের গানে ও কবিতায় বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বৃষ্টির দিনে কদম ফুল হাতে প্রিয়জনকে স্মরণের ঐতিহ্য বাঙালি সংস্কৃতিতে চিরন্তন।
রূপসী প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এবং বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে ফোটা কদম ফুল আজ নগরায়ন ও নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে গ্রামীণ জনপথ ও শহর থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। কদম গাছের কাঠ ও ছায়ার ব্যবহার থাকলেও নতুন গাছ রোপণ না করায় এই ঐতিহ্যবাহী গাছ আজ বিলুপ্তির পথে। আষাঢ়-শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টির সাথে কদমের যে গভীর মিতালী, তা আধুনিক সভ্যতার আগ্রাসনে হারিয়ে যেতে বসেছে।
নগরায়ন, নির্বিচার গাছ কাটা এবং বাণিজ্যিকভাবে কম লাভজনক হওয়ার কারণে আমাদের প্রকৃতি থেকে চিরচেনা বর্ষার দূত কদম ফুল আজ হারাতে বসেছে। আমাদের চারপাশের পরিবেশের বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাড়ির আশেপাশে বা সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে কদম গাছ রোপণ করা এখন সময়ের দাবি।






বাংলাদেশ বিলুপ্তির পথে শালিক পাখি
আরামপ্রিয় প্রাণী বিড়াল
পাখির রাজা ফিঙে
স্মরণীয় আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়
বন্ধুত্ব টিকে থাকুক
সুন্দরবন বনজীবীদের কষ্ট,পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী
বাঘ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিড়াল প্রজাতি
কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; কাঁচা কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে
জনসংখ্যা একটি দেশের সম্পদ এবং সমস্যা উভয়ই হতে পারে 