শনিবার ● ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » রাজনীতি » খুলনা-৬ আসনে জয়ের আশা বিএনপির; প্রত্যাবর্তন চায় জামায়াত
খুলনা-৬ আসনে জয়ের আশা বিএনপির; প্রত্যাবর্তন চায় জামায়াত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ কয়রা ও পাইকগাছা আসনে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। পুরোদমে চলছে প্রচার-প্রচারণা। এই আসনে এবার পাঁচজন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। নির্বাচনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটার ধারণা করছে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আসাদুল্লাহ ফকির ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল।
খুলনা-৬ কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতির মাঠে থাকলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অতীতে বিএনপি সাধারণত জামায়াতে ইসলামীর জন্য আসনটি ছেড়ে দিত। তবে দীর্ঘদিনের জোট রাজনীতির সমীকরণ ভেঙে যাওয়ায় এবার বিএনপি ও জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় হারানো আসনটিতে প্রত্যাবর্তন করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত। আর বিএনপি চায় ভোটের জোয়ারে জয় পেতে। এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
ভোটার ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আসনটিতে বিএনপি যদি পরিবর্তন আনতে পারে, সেটি হবে কেবল তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ফল। আর জামায়াতের যদি প্রত্যাবর্তন হয় তবে সেটি হবে বিএনপির অনৈক্যের কারণে। তবে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোট যেদিকে বেশি যাবে, শেষ পর্যন্ত জয় তারই হবে। সামান্য ব্যবধানও ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
কয়রা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজা উদ্দিন বলেন, খুলনা-৬ আসন জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে দুবার আমাদের প্রার্থী এমপি হয়েছেন। মানুষের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে এবারো দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হবেন বলে আশা করছি।
অবশ্য জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী স্থানীয় বিএনপির নেতারাও। কয়রা উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এমএ হাসান বলেন, এ এলাকায় বিএনপির নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। জোটবদ্ধ রাজনীতির কারণে আগে ছাড় দিতে হয়েছে। এবার নিজস্ব প্রার্থী থাকায় আমরা সুফল পাব। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব বলে আশা করছি।
আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩১ জন; যাদের মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ১২ হাজার ৮৬৯ ও নারী দুই লাখ ১০ হাজার ৪৬১ জন।অতীতের ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সর্বাধিক ৬ বার এই আসনে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা দুইবার করে জিতেছেন । বিএনপির প্রার্থী জিতেছেন শুধু ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে এখানে জেতেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ২০০১ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে জেতেন জামায়াতের প্রার্থী। পরবর্তী সব নির্বাচনেই শেষ হাসি ছিল আওয়ামী লীগের। অতীতে ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ ভোট গেছে আওয়ামী লীগের বাক্সে। দুই উপজেলার কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের ধারণা, আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটই এই আসনের প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হতে পারে। এ কারণে সব প্রার্থীই তাদের ভোটের আশায় বেশী সময় ব্যয় করছেন। অতীতে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের পক্ষে গেছে।
বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বলেন, নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ঘরে ঘরে সুপেয় পানি সরবরাহ ও কয়রায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। কয়রা ও পাইকগাছায় বিচারিক আদালত স্থাপন এবং সব উন্নয়ন প্রকল্প স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।
জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগের জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি ও নিষ্ক্রিয়তায় সরকারি বাজেট লুটপাট হয়েছে। নির্বাচিত হলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত ভবন নির্মাণ ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতি দূর করা হবে।
এ আসনের ভোটারদের বড় অংশই সুন্দরবননির্ভর শ্রমজীবী মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে টিকে থাকতে হয় তাদের। তাদের কাছে নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে টেকসই বেড়িবাধসহ উপকূলের উন্নয়ন। পাশাপাশি তারা চান নির্বাচনে নতুন সরকার এলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, চিকিৎসাসেবার উন্নতি ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশ। যারা দীর্ঘদিনের এ বঞ্চনা দূর করে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন, তাদেরই তারা বেছে নেবেন।
সরজমিনে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। অবহেলিত এ উপকূলীয় জনপদে এবার নতুন কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন ভোটাররা।






দীর্ঘ ১৭ বছর পর গনতান্ত্রিক জাতীয় সংসদ চালু হওযায় সফলতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত
মাগুরায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় উদ্বোধন করে পালিয়ে গেল নেতারা
চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে মাগুরায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫; অফিস ভাংচুর
মাগুরায় পুনরায় চালু হলো আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস
কেশবপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা প্রদান
সংস্কৃতি মন্ত্রী হওয়ায় নিতাই রায় চৌধুরীকে অভিনন্দন ও মিষ্টি বিতরণ
মাগুরায় বিএনপি ও জামায়াতের সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত
ভোট শেষে কর্মস্থলে ফিরতে মানুষের তাড়া
নির্বাচন পরবর্তী পাইকগাছায় ধানের শীষ প্রার্থী বাপ্পির মতবিনিময়
মাগুরার দুটি আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী 