শুক্রবার ● ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » ইতিহাস ও ঐতিহ্য » পাইকগাছার একটি উল্লেখযোগ্য এলাকা গদাইপুর
পাইকগাছার একটি উল্লেখযোগ্য এলাকা গদাইপুর
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার একটি উল্লেখযোগ্য এলাকা হলো গদাইপুর ইউনিয়ন। ইউনিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামের নাম গদাইপুর। এই এলাকার নামকরণের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস বা কোনো কিংবদন্তি সরকারি নথিপত্রে বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় ধারণা অনুযায়ী, গদাই ঘোষ নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, প্রাচীন জমিদার বা জনবসতি স্থাপনকারীর নাম অনুসারে এই স্থানের নামকরণ গদাইপুর হয়ে থাকতে পারে।
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা। গদাইপুর ইউনিয়নের অধীনে ১২টি গ্রাম ও ২২টি মৌজা রয়েছে। এটি একটি প্রাচীন জনপদ। গদাইপুর ইউনিয়নটি নদী ও খাল বেষ্টিত, যা একে ভৌগোলিকভাবে স্বতন্ত্র করেছে।গদাইপুর ইউনিয়নটি পাইকগাছা উপজেলার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকা, যা শিবসা নদী ও কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত।
কালের স্বাক্ষী বহনকারী শিবসা নদীর তীরে গড়ে উঠা পাইকগাছা উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হলো ৭নং গদাইপুর ইউনিয়ন। কাল পরিক্রমায় আজ ৭নং গদাইপুর ইউনিয়ন শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার নিজস্ব স্বকীয়তা আজও সমুজ্জ্বল। গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়তন ১৪.৭০ (বর্গ কিঃ মিঃ) লোকসংখ্যা – ২৬৯৬৩ জন (প্রায়) (২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী) গ্রামের সংখ্যা ১২ টি , মৌজার সংখ্যা ২৪ টি। হাট/বাজার সংখ্যা ৩ টি। উপজেলা সদর থেকে যোগাযোগ মাধ্যম; ভ্যান, ইজিবাইক, বাস, মোটরসাইকেল, সাইকেল ইত্যাদি।
শিক্ষার হার – ৪৯%। (২০০১ এর শিক্ষা জরীপ অনুযায়ী) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ১৩টি, বে-সরকারী রেজিঃ প্রাঃ বিদ্যালয়- ০টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২টি, মাদ্রাসা- ৩টি।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামে বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত রয়েছেন যারা বিজ্ঞান, সাহিত্য, রাজনীতি এবং ধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কাজী ইমদাদুল হক : বিখ্যাত মুসলিম সাহিত্যিক এবং শিক্ষাবিদ। তার উল্লেখযোগ্য কালজয়ী উপন্যাস হলো আবদুল্লাহ। তিনি পাইকগাছার গদাইপুর গ্রামে (মেলেকপুরাইকাটি) জন্মগ্রহণ করেন। প্রতি বছর তার জন্মদিন ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন এবং তার নামে পদক প্রদান করা হয়। শেখ রাজ্জাক আলী : প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯২৮ সালে তিনি গদাইপুর ইউনিয়ানের হিতামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মুহাম্মদ শামসুর রহমান: গদাইপুর ইউনিয়নের মটবাটি গ্রামের কৃতি সন্তান ছিলেন রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ শামসুর রহমান। তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর স্মরণে শামছুর রহমান ফাউন্ডেশন গঠিত হয়েছে, যা পাইকগাছায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চারা বিতরণ এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। মেহের মুসুল্লি: গদাইপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গদাইপুর গ্রামের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব হলেন দানবীর মেহের মুসুল্লী। তিনি একজন সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মেহের মুসুল্লী সামান্য চকিদার হয়েও শিক্ষা ও জনকল্যাণে ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন। তিনি স্যার পি.সি. রায়ের কাছে দরিদ্র মেধাবী ছাত্রদের শিক্ষার জন্য অর্থ দান করেছিলেন। আব্দুর জব্বার গাইন: চারণ কবি আব্দুর জব্বার গাইন, তিনি গদাইপুর ইউনিয়ানের তকিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গদাই ঘোষ: স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী গদাইপুর গ্রামের নামকরণ এই প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম অনুসারে হয়েছে।
প্রকাশ ঘোষ বিধান: পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হলেন প্রকাশ ঘোষ বিধান। তিনি একাধারে একজন সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট এবং পরিবেশকর্মী।
তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং লেখক, যিনি মূলত উপকূলীয় পরিবেশ, প্রকৃতি এবং সামাজিক ইস্যু নিয়ে লেখালেখির জন্য পরিচিত। তিনি সাংবাদিকতা পেশায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত এবং বর্তমানে প্রেসক্লাব পাইকগাছা-র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বস্তুনিষ্ঠ এবং সাহসী সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত।
তিনি দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে সমসাময়িক বিষয়, গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জনকল্যাণমূলক বিষয়ে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে ২০২৪ সালে খুলনা জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ‘পরিবেশ বন্ধু সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।
তিনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নিয়ে জোরালো মতামত তুলে ধরেন। উপকূলীয় পরিবেশ, প্রকৃতি ও সামাজিক ইস্যুতে বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ।






বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের অন্যতম স্মারক সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক দরবার স্তম্ভ
প্রত্যতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে ভাতের ভিটা সংরক্ষণের কাজ চলছে
বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু
বীরাঙ্গনা গুরুদাসী মাসী
আগাছা ও জঙ্গলে পরিপূর্ণ ‘শিল্পী এস এম সুলতান ঘাট’
মাগুরার বিনোদপুরে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রাম বাবুর বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে
কেশবপুর ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থাপনায় সমৃদ্ধ পর্যটনের লীলাভুমি
স্মৃতিচিহ্ন মুছে যাচ্ছে বাজারখোলা দোল মন্দিরের
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইকগাছা ক্যাম্পাস বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে নামকরণের দাবি 