শিরোনাম:
পাইকগাছা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

SW News24
শনিবার ● ১৪ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » অশোক ফুল প্রেমের প্রতীক
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » অশোক ফুল প্রেমের প্রতীক
২৫ বার পঠিত
শনিবার ● ১৪ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

অশোক ফুল প্রেমের প্রতীক

---  প্রকাশ ঘোষ বিধান

অশোক মনোমুগ্ধকর ফুলের জন্য খ্যাত। এর সৌন্দর্য এবং ঔষধি গুণাবলির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। অশোক ফুল ছোট আকারের হলেও বড় গুচ্ছ বা মঞ্জরিতে ফোটে। এই ফুলগুলো প্রাথমিকভাবে কমলা-হলুদ রঙের হয় এবং সময়ের সাথে সাথে তা গাঢ় লাল বা লালচে রঙ ধারণ করে। সাধারণত বসন্তকালে বা ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল এই গাছে প্রচুর ফুল ফুটতে দেখা যায়।

অশোক ফুল হলো একটি চিরসবুজ ছায়াদানকারী বৃক্ষের ফুল। শোভাবর্ধক বৃক্ষরূপে রোপণ করা হয়। অশোক মাঝারি আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ। ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। পাতা ১০-২৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৫-১০ সেন্টিমিটার চওড়া। ফুল কমলা-হলুদ থেকে লাল। ফল বেশ বড়, পুরু, চাপা, লালচে বাদামি। পাতার রঙ গাঢ়-সবুজ। পাতাগুলো দীর্ঘ, চওড়া ও বর্শাফলাকৃতির। কচিপাতা কোমল, নমনীয়, ঝুলন্ত ও তামাটে। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম বসন্তকাল। তবে হেমন্ত অবধি এ গাছে ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে শীতকালেও এরা অল্প সংখ্যায় ফুটে থাকে। অশোক ফুল গাছের কাণ্ড থেকে ফোটে। ফুল আকারে ছোট, কিন্তু বহুপৌষ্পিক, ছত্রাকৃতি। মঞ্জরি আকারে বড়। অজস্র ফুলের সমষ্টি অশোকমঞ্জরি মৃদু গন্ধযুক্ত এবং বর্ণ ও গড়নে আকর্ষণীয়। তাজা ফুলের রং কমলা, কিন্তু বাসি ফুল লাল রঙ ধারণ করে। পরাগকেশর দীর্ঘ। ফল বড়সড় শিমের মতো চ্যাপ্টা, পুরু এবং ঈষৎ বেগুনি রঙের। অশোক ফলের বীজ থেকে সহজেই চারা জন্মায়। তবে চারার বৃদ্ধি মন্থর।

প্রেমের প্রতীক অশোক ফুল। সংস্কৃত ভাষায় অশোক শব্দের অর্থ হলো শোকহীন বা দুঃখহীন, যা আনন্দ ও শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অশোক গাছ অত্যন্ত পবিত্র। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ অশোক বৃক্ষের নিচে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া রামায়ণে উল্লিখিত সীতার অশোক কানন এর কারণেও এটি বেশ পরিচিত। এটিকে প্রেমের প্রতীক হিসেবেও গণ্য করা হয়। ভারত ও শ্রীলংকায় অশোক প্রথাগত ঐতিহ্যের অংশ এবং পবিত্র বৃক্ষ। অনেক হিন্দু-বৌদ্ধ মন্দির আঙিনায় এ গাছ দেখা যায়।

ভেষজ বৃক্ষ হিসেবেও এ বৃক্ষ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় অশোক ফুল ও এর বাকল দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি বিশেষ করে মহিলাদের গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা, যেমন অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও ব্যথা উপশমে বেশ কার্যকর। রক্ত আমাশয়, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং চর্মরোগের চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহৃত হয়। প্রতি বছর ওষুধশিল্পে প্রচুর পরিমাণ অশোকের বাকল প্রয়োজন হয়। থাইল্যান্ডে ফুল খাওয়া হয়। বাকল অনিয়মিত ঋতুস্রাব, নিউমোনিয়া, পাইলস্ রোগে ব্যবহৃত হয়।

এটি মূলত ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার আদি বৃক্ষ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মায়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় বিস্তৃত। ভারতের ওড়িশা রাজ্যের রাজ্য ফুল হিসেবে অশোক ফুল স্বীকৃত। সৌন্দর্য ও ছায়ার জন্য এই গাছটি বিভিন্ন উদ্যান ও রাস্তার ধারে লাগানো হয়। বন্য উদ্ভিদরূপে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনভূমি ও ঢাকার রমনা পার্ক ও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানসহ বিভিন্ন স্থানে অশোক ফুলের দেখা মেলে। দেশের বিভিন্ন উদ্যান, অফিস চত্বর ও বাড়ির আঙিনায় লাগানো হয়।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ