বৃহস্পতিবার ● ১৯ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বুদ্ধিমান প্রাণী শিয়াল
বুদ্ধিমান প্রাণী শিয়াল
প্রকাশ ঘোষ বিধান
শিয়াল অত্যন্ত বুদ্ধিমান, ধূর্ত ও কৌশলী স্তন্যপায়ী প্রাণী। শিকারি প্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে এবং খাবার জোগাড় করতে বিশেষ পারদর্শী। এরা দ্রুত শিখতে পারে, পরিবেশের জটিল ম্যাপ মনে রাখতে পারে এবং একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। সিংহের মতো শক্তিশালী প্রাণীর কাছ থেকে খাবার চুরি করার মতো চতুরতাও এদের রয়েছে।
শিয়াল হচ্ছে কুকুর ও নেকড়ের জাতভাই এবং এর সবাই ক্যানিডি পরিবারের সদস্য। শিয়াল দেখতে কিছুটা নেকড়ের মতো হলেও আকারে কুকুরের চেয়ে ছোট। পৃথিবীতে তিন প্রজাতির শিয়াল আছে। কালো-পিঠ ও পাশ-ডোরা প্রজাতির শিয়াল আফ্রিকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোতে বাস করে। আর সোনালি বা এশীয় প্রজাতির বিস্তৃতি- পূর্ব ইউরোপ, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত। আমাদের দেশের শিয়াল এশীয় প্রজাতিভুক্ত। বাংলাদেশে পাতি শিয়াল ও খেঁক শিয়াল নামে দুই ধরনের শিয়াল দেখা যায়।
শিয়াল যেকোনো পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ফাঁদ বা শিকারি থেকে বাঁচার জন্য দ্রুত বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এরা প্রায়শই জটিল কৌশল অবলম্বন করে শিকার ধরে। এরা নিজেদের পরিবেশের খুঁটিনাটি মনে রাখে এবং বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারে। শিয়াল ডাক, ভঙ্গি এবং গন্ধের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে। লোককথায় ধূর্ত বলা হলেও, শিয়াল বাস্তবেই তাদের সঙ্গীর প্রতি আজীবন বিশ্বস্ত থাকে।
শিয়ালের লেজ বাদে প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণী ৬০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার লম্বা; লেজ ২০ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার। ঘাড় বরাবর উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার। ওজন ৭ থেকে ১১ কেজি। মুখ লম্বাটে। লেজ ফোলা ও সব সময় নিচের দিকে নামানো থাকে। একনজরে গাঢ় বাদামি। দেহের ওপরটা কালচে ও নিচটা হালকা বাদামি। মুখমণ্ডলের নিচ থেকে গলা পর্যন্ত সাদাটে।
মূলত মাংসাশী হলেও শিয়াল সর্বভুক। ইঁদুর, পাখি, হাঁস-মুরগি, গুইসাপ, সাপ, কাঁকড়া, মাছ, মরা-পচা প্রাণী, ডাস্টবিনের ময়লা, এমনকি কবর খুঁড়ে মানুষের লাশও খায়। মরা মানুষ খায় বলে মানুষের কাছে ঘৃণিত। এ ছাড়া ভুট্টা, আখ, তরমুজ, আম-কাঁঠাল, খেজুরের রস ইত্যাদিও খায়। সুযোগ পেলে দল বেঁধে দুর্বল ছাগল-ভেড়া বা তাদের ছানা ধরাশায়ী করে। একাকী পেলে মানুষকেও আক্রমণ করতে পারে। তবে কুকুরকে বেশ ভয় পায়। চালাক-চতুর হলেও কিছুটা ভিতু স্বভাবের।
শিয়াল মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বাস করে। বছরে দুবার বাচ্চা দেয়। স্ত্রী ৫৭ থেকে ৭০ দিন গর্ভধারণের পর চার থেকে ছয়টি বাচ্চা প্রসব করে। প্রায় ১২ দিনে বাচ্চাদের চোখ খোলে। আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১৫ বছর। বর্তমানে এ দেশের প্রায় সবখানেই এরা নির্যাতনের শিকার।
যদিও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় শিম্পাঞ্জি বা ডলফিনের মতো শিয়ালকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীর তালিকার শীর্ষে রাখা হয় না। তবুও বন্যপ্রাণীদের মধ্যে শিয়াল তার চতুরতা ও পন্ডিত বুদ্ধির জন্য সুপরিচিত। বন্য পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষেত্রে শিয়ালের উপস্থিত বুদ্ধি অতুলনীয়।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট






শিয়াল লেজের গোড়ার গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায় ও কুকুর এলাকা চিহ্নিত করে
পানিই জীবন
বন ও গাছের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে
ফুলের মৌসুম বসন্ত
রূপালী-ধূসর ধাতু ইউরেনিয়াম
নারী দিবসের গুরুত্ব
সুন্দরবনের গোলপাতা ও ফল উপকূলীয় অর্থনিতিতে গুরুত্বপূর্ণ
নদীর অধিকার রক্ষায় মানুষ দায়বদ্ধ 