শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ১৯ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » শিয়াল লেজের নিচের গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায়
প্রথম পাতা » মুক্তমত » শিয়াল লেজের নিচের গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায়
৪ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১৯ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শিয়াল লেজের নিচের গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায়

---শিয়াল হচ্ছে কুকুর ও নেকড়ের জাতভাই এবং এর সবাই ক্যানিডি পরিবারের সদস্য। পৃথিবীতে তিন প্রজাতির শিয়াল আছে। কালো-পিঠ ও পাশ-ডোরা প্রজাতির শিয়াল আফ্রিকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোতে বাস করে। আর সোনালি বা এশীয় প্রজাতির বিস্তৃতি- পূর্ব ইউরোপ, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত। আমাদের দেশের শিয়াল এশীয় প্রজাতিভুক্ত। বাংলাদেশে পাতি শিয়াল ও খেঁক শিয়াল নামে দুই ধরনের শিয়াল দেখা যায়।

শিয়াল দেখতে কিছুটা নেকড়ের মতো হলেও আকারে কুকুরের চেয়ে ছোট। লেজ বাদে প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণী ৬০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার লম্বা; লেজ ২০ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার। ঘাড় বরাবর উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার। ওজন ৭ থেকে ১১ কেজি। মুখ লম্বাটে। লেজ ফোলা ও সব সময় নিচের দিকে নামানো থাকে। একনজরে গাঢ় বাদামি। দেহের ওপরটা কালচে ও নিচটা হালকা বাদামি। মুখমণ্ডলের নিচ থেকে গলা পর্যন্ত সাদাটে।

শিয়ালের লেজের নিচের দিকের গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায়। শিয়ালের লেজের কাছে একটা বিশেষ গ্রন্থি থাকে। ভায়োলেট গ্রন্থি বা সুপ্রাকডাল গ্রন্থি হল কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর লেজের নিচের পৃষ্ঠে অবস্থিত একটি গ্রন্থি। ওটা থেকে এমন এক গন্ধ বের হয়। একেক শিয়ালের গন্ধ একেক রকম। আর এটা শুধু শিয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। যার মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ব্যাজার এবং ক্যানিড যেমন শিয়াল, নেকড়ে, এবং গৃহপালিত কুকুর, পাশাপাশি গৃহপালিত বিড়াল। শিয়াল, নেকড়ে, কুকুর, বিড়াল এই পুরো দলটাই একই সিস্টেমে চলে। এমনকি বিড়াল পরিবারেও পায়ুপথের পাশে থাকে সেই বিখ্যাত পায়ু গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে বের হওয়া কেমিক্যাল দিয়েই ওরা একে অপরকে চেনে। তাই কুকুররা যখন একে অপরকে দেখলেই লেজ নেড়ে পেছন দিকে যায়।

শিয়ালসহ স্তন্যপায়ী প্রাণীর মলদ্বারের কাছে অবস্থিত ছোট গ্রন্থিগুলোকে পায়ু গ্রন্থি বা পায়ু থলি বলা হয়। এগুলো বাহ্যিক পায়ু স্ফিংক্টার পেশী এবং অভ্যন্তরীণ পায়ু স্ফিংক্টার পেশীর মাঝখানে অবস্থিত। মানুষ ছাড়া অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে, পায়ু গ্রন্থির নিঃসরণে প্রধানত তীব্র গন্ধযুক্ত উদ্বায়ী জৈব যৌগ থাকে এবং তাই এগুলো কার্যকরীভাবে যোগাযোগের সাথে জড়িত। প্রজাতির উপর নির্ভর করে, এগুলো অঞ্চল চিহ্নিতকরণ, ব্যক্তি শনাক্তকরণ, এবং যৌন সংকেতের পাশাপাশি প্রতিরক্ষার (যেমন স্কংকের ক্ষেত্রে ) সাথে জড়িত থাকতে পারে।

কুকুর এবং বিড়ালরা প্রধানত তাদের এলাকা চিহ্নিত করার জন্য তাদের পায়ুগ্রন্থির নিঃসরণ ব্যবহার করে, এবং সাধারণত প্রতিবার মলত্যাগের সময় অল্প পরিমাণে তরল নিঃসরণ করে। অনেকে উদ্বিগ্ন বা ভীত হলে প্রায়শই এই গ্রন্থিগুলি থেকে নিঃসরণ করে। সুস্থ কুকুরদের থলির ভেতরের তরলের চেহারায় সাধারণত অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। পায়ু থলির তরলের রঙ হলুদ থেকে হালকা বাদামী বা খয়েরী পর্যন্ত হতে পারে। তরলের ঘনত্ব পাতলা, জলের মতো নিঃসরণ থেকে শুরু করে ঘন, দানাদার পেস্ট পর্যন্ত হতে পারে। এর দুর্গন্ধ বা গন্ধের তীব্রতার মধ্যেও ভিন্নতা থাকতে পারে। এই সমস্ত বিষয় প্রাণীভেদে ভিন্ন হতে পারে।

মূলত মাংসাশী হলেও শিয়াল সর্বভুক। ইঁদুর, পাখি, হাঁস-মুরগি, গুইসাপ, সাপ, কাঁকড়া, মাছ, মরা-পচা প্রাণী, ডাস্টবিনের ময়লা, এমনকি কবর খুঁড়ে মানুষের লাশও খায়। মরা মানুষ খায় বলে মানুষের কাছে ঘৃণিত। এ ছাড়া ভুট্টা, আখ, তরমুজ, আম-কাঁঠাল, খেজুরের রস ইত্যাদিও খায়। সুযোগ পেলে দল বেঁধে দুর্বল ছাগল-ভেড়া বা তাদের ছানা ধরাশায়ী করে। একাকী পেলে মানুষকেও আক্রমণ করতে পারে। তবে কুকুরকে বেশ ভয় পায়। চালাক-চতুর হলেও কিছুটা ভিতু স্বভাবের।

শিয়াল মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বাস করে। বছরে দুবার বাচ্চা দেয়। স্ত্রী ৫৭ থেকে ৭০ দিন গর্ভধারণের পর চার থেকে ছয়টি বাচ্চা প্রসব করে। প্রায় ১২ দিনে বাচ্চাদের চোখ খোলে। আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১৫ বছর। বর্তমানে এ দেশের প্রায় সবখানেই এরা নির্যাতনের শিকার।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)