শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ১৯ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » শিয়াল লেজের গোড়ার গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায় ও কুকুর এলাকা চিহ্নিত করে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » শিয়াল লেজের গোড়ার গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায় ও কুকুর এলাকা চিহ্নিত করে
৮৮ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১৯ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শিয়াল লেজের গোড়ার গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায় ও কুকুর এলাকা চিহ্নিত করে

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান

শিয়ালের লেজের ওপরের বা গোড়ার দিকে সুপারকডাল গ্রন্থি বা ভায়োলেট গ্রন্থি  নামক একটি বিশেষ গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থি থেকে তীব্র গন্ধযুক্ত ফেরোমেন নিঃসৃত হয়, যা তাদের এলাকা চিহ্নিত করতে, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে এবং শক্র তাড়াতে সাহায্য করে। একে অনেক সময় শেয়ালের ডিজিটাল আইডি কার্ড হিসেবেও গণ্য করা হয়।

লেজের ওপরের পিঠে, সাধারণত গোড়ার দিক থেকে সামান্য দূরে, যেখানে কালো দাগ থাকে। এই গ্রন্থি থেকে নিসৃত কড়া গন্ধের মাধ্যমে শেয়াল একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে এবং নিজেদের বংশপরিচয় ও এলাকা চিহ্নিত করে। প্রবল ঘ্রাণশক্তির সাহায্যে এই গ্রন্থির গন্ধ ব্যবহার করে তারা শত্রু তাড়ায়। এই গ্রন্থির ক্ষরণ অতিবেগুনি আলোতে জ্বলে ওঠে, যা ইঙ্গিত করে যে শেয়ালের দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত প্রখর। এই গ্রন্থির মাধ্যমেই শেয়াল তার লেজের লোম পরিষ্কার রাখে। ভায়োলেট গ্রন্থি নামে পরিচিত এই অংশটি শেয়ালের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইন্দ্রিয় অঙ্গ।

শিয়াল হচ্ছে কুকুর ও নেকড়ের জাতভাই এবং এর সবাই ক্যানিডি পরিবারের সদস্য। শিয়াল দেখতে কিছুটা নেকড়ের মতো হলেও আকারে কুকুরের চেয়ে ছোট।

শিয়ালের লেজের উপরের দিকের গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায়। শিয়ালের লেজের কাছে একটা বিশেষ গ্রন্থি থাকে। ভায়োলেট গ্রন্থি বা সুপ্রাকডাল গ্রন্থি হল কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর লেজের নিচের পৃষ্ঠে অবস্থিত একটি গ্রন্থি। ওটা থেকে এমন এক গন্ধ বের হয়। একেক শিয়ালের গন্ধ একেক রকম। আর এটা শুধু শিয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। যার মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ব্যাজার এবং ক্যানিড যেমন শিয়াল, নেকড়ে, গৃহপালিত কুকুর ও বিড়াল। শিয়াল, নেকড়ে, কুকুর, বিড়াল এই পুরো দলটাই একই সিস্টেমে চলে। এমনকি বিড়াল পরিবারেও পায়ুপথের পাশে থাকে সেই বিখ্যাত পায়ু গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে বের হওয়া কেমিক্যাল দিয়েই ওরা একে অপরকে চেনে। তাই কুকুররা যখন একে অপরকে দেখলেই লেজ নেড়ে পেছন দিকে যায়। গ্রন্থির র্গন্ধ শুকে তার সম্পর্কে অবগত হয়।

শিয়ালসহ স্তন্যপায়ী প্রাণীর মলদ্বারের কাছে অবস্থিত ছোট গ্রন্থিগুলোকে পায়ু গ্রন্থি বা পায়ু থলি বলা হয়। এগুলো বাহ্যিক পায়ু স্ফিংক্টার পেশী এবং অভ্যন্তরীণ পায়ু স্ফিংক্টার পেশীর মাঝখানে অবস্থিত। মানুষ ছাড়া অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে, পায়ু গ্রন্থির নিঃসরণে প্রধানত তীব্র গন্ধযুক্ত উদ্বায়ী জৈব যৌগ থাকে এবং তাই এগুলো কার্যকরীভাবে যোগাযোগের সাথে জড়িত। গ্রন্থির র্গন্ধ বিভিন্ন প্রজাতির উপর নির্ভর করে, এগুলো অঞ্চল চিহ্নিতকরণ, ব্যক্তি শনাক্তকরণ, এবং যৌন সংকেতের পাশাপাশি প্রতিরক্ষার সাথে জড়িত থাকতে পারে। যেমন স্কাংক এরা তাদের পায়ুগ্রন্থি থেকে তীব্র ও অপ্রীতিকর গন্ধযুক্ত তরল ছিটিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। বিপদে পড়লে এরা ১০ থেকে ১৫ ফুট দূর পর্যন্ত লক্ষ্যভেদ করে দুর্গন্ধযুক্ত স্প্রে ছুড়তে পারে। তবে স্প্রে করার আগে এরা পা ঠুকে বা লেজ উঁচিয়ে সতর্ক সংকেত দেয়।

কুকুর এবং বিড়ালরা প্রধানত তাদের এলাকা চিহ্নিত করার জন্য তাদের পায়ুগ্রন্থির নিঃসরণ ব্যবহার করে। বেওয়ারিশ কুকুর বিভিন্ন হাট বাজাররে একটা নির্দিষ্ট এলাকায় একা বা দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান করে। তার বিভিন্ন স্থাপনা ও বাজরে রাখা মটর সাইকেলে প্রস্রাবে প্রস্বাবের মাধ্যমে পায়ু গ্রন্থির গন্ধযুক্ত তরল নিঃসরণ করে এলাকা নিয়ন্ত্রন করে। অন্য এলাকার কোন কুকুরের প্রস্রাব করা মটর সাইকেল তার এলাকায় প্রবেশ করলে ভিন্ন গন্ধ পেয়ে মটর সাইকেলের পিছু তাড়া করতে দেখা যায়।

কুকুর এবং বিড়ালরা সাধারণত প্রতিবার মলত্যাগের সময় অল্প পরিমাণে তরল নিঃসরণ করে। অনেকে উদ্বিগ্ন বা ভীত হলে প্রায়শই এই গ্রন্থিগুলি থেকে নিঃসরণ করে। সুস্থ কুকুরদের থলির ভেতরের তরলের চেহারায় সাধারণত অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। পায়ু থলির তরলের রঙ হলুদ থেকে হালকা বাদামী বা খয়েরী পর্যন্ত হতে পারে। তরলের ঘনত্ব পাতলা, জলের মতো নিঃসরণ থেকে শুরু করে ঘন, দানাদার পেস্ট পর্যন্ত হতে পারে। এর দুর্গন্ধ বা গন্ধের তীব্রতার মধ্যেও ভিন্নতা থাকতে পারে। এই সমস্ত বিষয় প্রাণীভেদে ভিন্ন হতে পারে।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ