শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

SW News24
শুক্রবার ● ১২ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » মাদকের ভয়াবহতা রোধে করণীয়
প্রথম পাতা » মুক্তমত » মাদকের ভয়াবহতা রোধে করণীয়
৫ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১২ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মাদকের ভয়াবহতা রোধে করণীয়

মাদকের ভয়াবহতা রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধ করা এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। মাদকের ভয়াবহতা রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সুদৃঢ় বন্ধন, সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা এবং সহজলভ্যতা রোধের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ও এর কুফল থেকে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব।

২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। মাদকের অপব্যবহার রোধ, অবৈধ পাচার দমন এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা। ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৬ জুনকে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে দিবসটি গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়ে আসছে।

পরিবার হলো যেকোনো নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা। সন্তানদের মাদকমুক্ত রাখতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মিশে এবং তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা। সন্তানের দেরিতে বাড়ি ফেরা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, বা হঠাৎ অতিরিক্ত টাকার চাহিদা বাড়ার মতো লক্ষণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এড়িয়ে চলুন, কারণ পারিবারিক অশান্তি অনেক সময় তরুণদের মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে তারা কোনো মানসিক চাপে থাকলে বা হতাশায় ভুগলে তা পরিবারের সাথে শেয়ার করতে পারে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া।

তরুণদের একটি বড় অংশ দিনের বেশী সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাটায়, তাই শিক্ষকদের ভূমিকা এখানে অপরিসীম। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সেমিনার ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া। তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত রাখা।

কোনো ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে অপরাধী না ভেবে একজন রোগী হিসেবে বিবেচনা করা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং এবং ভালো কোনো পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া।

মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে এর অপব্যবহার রোধ করা অসম্ভব। মাদক চোরাচালান ও উৎপাদন কঠোরভাবে দমন করা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নজরদারি বাড়ানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট এলাকার আশেপাশে মাদকের দোকান ও সহজলভ্যতা কঠোর হাতে বন্ধ করা। পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে মাদকের কেনাবেচা রুখে দেওয়া। মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার সাথে জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

মাদকাসক্তি নিরাময় করতে সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যেন আসক্ত ব্যক্তিরা সহজে চিকিৎসা পেতে পারে। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত তথ্যচিত্র ও শিক্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে।

মাদকের ভয়াবহতা রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি স্তরে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ও এর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।





আর্কাইভ