শিরোনাম:
পাইকগাছা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

SW News24
শনিবার ● ৪ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস
প্রথম পাতা » মুক্তমত » আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস
৬ বার পঠিত
শনিবার ● ৪ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস

---আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস প্রতি বছর ৬ জুলাই বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়। এই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনে চুম্বনের আনন্দ ও গুরুত্বকে মনে করিয়ে দেওয়া এবং সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে ভালোবাসার এই বিশুদ্ধ রূপকে উদযাপন করা।  এই বিশেষ দিবসটি উদযাপনের রীতি প্রথম শুরু হয় যুক্তরাজ্যে।

অনেকে চুম্বনকে কেবল একটি সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা বা শারীরিক সম্পর্কের পূর্ব ধাপ হিসেবে দেখেন। এই ধারণার বাইরে গিয়ে চুম্বনের আসল আনন্দ, মানসিক প্রশান্তি এবং ভালোবাসার বিশুদ্ধ প্রকাশকে উদযাপন করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। এটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মা-বাবা, সন্তান, বন্ধু এবং প্রিয়জনদের প্রতি স্নেহ ও সম্মান প্রদর্শনের একটি মাধ্যম।

২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে থাকে। মানুষ যেন কেবল সামাজিক লৌকিকতা বা অন্য কোনো কাজের প্রস্তাবনা হিসেবে নয়, বরং ভালোবাসার এক গভীর অনুভূতি হিসেবে চুম্বনের সাধারণ আনন্দকে উপভোগ করতে পারে, সেই সচেতনতা তৈরি করা।

ভালোবাসা সপ্তাহের কিস ডে বনাম আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবসঅনেকেই এই দুটি দিবসের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন, তবে এ দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ৬ জুলাই আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস, এটি সর্বজনীন ভালোবাসার প্রতীক। এটি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার, বন্ধু, সন্তান বা প্রিয় পোষা প্রাণীর প্রতি স্নেহ ও শ্রদ্ধা প্রকাশের দিন।

১৩ ফেব্রুয়ারি কিস ডে মূলত ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ বা ভালোবাসা সপ্তাহের একটি অংশ হিসেবে উদযাপিত হয়, যা সম্পূর্ণ রোমান্টিক সম্পর্কের ওপর কেন্দ্র করে পালিত হয়।

চুম্বনেরও প্রকারভেদ আছে। চুম্বনের ধরনই বলে দেয় সম্পর্কের গভীরতা। এমনকি চুম্বনের ধরন অনুযায়ী বোঝা যায়, সম্পর্কের ধরনও। চুম্বনের কোনও লিখিত ধরন নেই। তবে প্রচলিত রীতি আছে। প্রেমের গাঢ় বন্ধনকেই প্রকাশ করে ফ্রেঞ্চ কিস এই বিশেষ চুম্বন। আবার কপালের চুম্বন অন্য অর্থের ইঙ্গিত। সম্পর্কের সুরক্ষা ও ভরসার সংকেত এই বিশেষ চুম্বন। প্রেমের বাইরেও এই চুম্বন অভিভাবকদের কাছ থেকে সন্তানরা পেয়ে থাকে।

চুম্বনের ইতিহাস মানব সভ্যতার মতোই পুরনো। ষষ্ঠ শতকের দিকে ফ্রান্সে নাচের মাধ্যমে একে অপরকে চুম্বন করার প্রথা ছিল। রোমানরা আবার একে তিন ভাগে ভাগ করেছিল। অস্কুলাম; বন্ধুর গালে চুম্বন, বাসিয়াম; ঠোঁটে চুম্বন এবং সুভিয়াম; গভীর চুম্বন। আধুনিক সময়ে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের শেষলগ্নে কিস ডে-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাতে প্রিয়জনকে স্পর্শের মাধ্যমে মনের গভীর অনুরাগ প্রকাশ করা যায়।

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অনুযায়ী চুম্বনের ধরণও বদলে যায়। কপালে চুম্বন: এটি গভীর শ্রদ্ধা, যত্ন এবং নিরাপত্তার প্রতীক। সঙ্গীকে আশ্বস্ত করতে এর চেয়ে বড় অস্ত্র আর নেই। হাতে চুম্বন: এটি মূলত আভিজাত্য এবং সঙ্গীর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করার এক সুন্দর ধরণ। গালে চুম্বন: এটি স্নেহ এবং বন্ধুত্বের উষ্ণতা প্রকাশ করে।

গবেষণা ও চিকিৎসকদের মতে, চুম্বনের বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা রয়েছে। চুম্বনের ফলে মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন ও ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো করে। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তীব্র বা আবেগপূর্ণ চুম্বনের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে প্রায় ৬.৪ ক্যালোরি পর্যন্ত বার্ন বা ক্ষয় হতে পারে। সম্পর্কের বাঁধন মজবুত করার পাশাপাশি এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এক পরম ওষুধ।





আর্কাইভ