শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

SW News24
শুক্রবার ● ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » পাইকগাছা পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় বিপাকে কৃষক
প্রথম পাতা » কৃষি » পাইকগাছা পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় বিপাকে কৃষক
৮৪ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১৪ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছা পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় বিপাকে কৃষক

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম বিড়ম্বনা ও সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। দিন দিন ডোবা, নালা ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়া এবং অনাবৃষ্টির কারণে এই এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পাট কাটার উপযুক্ত সময় হলেও কৃষকরা তা পচাতে বা জাগ দিতে পারছেন না।

স্থানীয় অনেক ডোবা, খাল ও পুকুর শুকিয়ে বা ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার জায়গা কমে গেছে।  জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভরা বর্ষা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো পানিহীন অবস্থায় রয়েছে।

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় নদী বা খালের পানি লবণাক্ত, যা পাটের আঁশ পচানোর জন্য উপযুক্ত নয় এবং এতে আঁশের মান নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক কয়েক কিলোমিটার দূরে নছিমন, ভ্যান বা মাথায় করে পাট বহন করে দূরবর্তী কোনো গভীর জলাশয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে তাঁদের শ্রম ও যাতায়াত খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সময়মতো এবং পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দিতে না পারায় পাটের স্বাভাবিক সোনালী রঙ ও আঁশের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাগ দেওয়ার জায়গা না থাকায় অনেকে পাট কাটতে দেরি করছেন, ফলে ক্ষেতেই পাটগাছ শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে।

কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৮৩ হেক্টর জমিতে। উপকূলের লবনাক্ত পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভার জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাট গাছ বড় ও আঁশ বেশ পুুরু হয়েছে। তবে সময় মত পাট জাগ দিতে না পারায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। হিতামপুর ব্লকের চাষী আব্দুস সামাদ বলেন, জলাশয়ের অভাবে পাট কেটে ক্ষেতের নিচু জায়গায় পাট জাগ দিয়েছি, কিন্তু পাটের আটি পুরাটা পানির নিচে ডুবছে না। এক পাশ পচলে অপর পাশ উল্টে দিয়ে পচাতে হবে।

জলাশয়ের এই তীব্র সংকটে কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কর্মকর্তারা আধুনিক এবং কম পানির কিছু প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। রিবন রেটিং পদ্ধতিতে জলাশয় ছাড়াই কাঁচা পাটগাছ থেকে প্রথমে ছাল ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেই ছালগুলো গোল করে বেঁধে বড় ড্রাম বা চাড়িতে সামান্য পানি দিয়ে সহজেই পচানো যায়। এতে পানির অপচয় হয় না এবং আঁশের মানও চমৎকার থাকে। প্লাস্টিক শিট বা পলিথিন বিছিয়ে কৃত্রিম ছোট গর্ত তৈরি করে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে সেখানে পাট জাগ দেওয়া সম্ভব। এই সংকট দূর করতে স্থানীয় খাল-বিল ও সরকারি খাস জলাশয়গুলো দ্রুত পুনঃখনন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





আর্কাইভ