শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ২২ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে প্রাকৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে প্রাকৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ
৯১ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২২ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে প্রাকৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ

 প্রকাশ ঘোষ বিধান

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল। এখানে সুন্দরী, গেওয়া, গোলপাতা ও গরান-এর মতো অসংখ্য গাছপালা এবং বাঘ, হরিণ, বানর, কুমির, ডলফিন রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপসহ অসংখ্য প্রাণী প্রজাতির বাস। যা সুন্দরবনকে  উদ্ভিদ ও প্রাণীর এক বিশাল জাদুঘরে পরিণত করেছে। তাই সুন্দরবনকে বলা হয় জীববৈচিত্র্যর পাঠশালা।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং অনন্য। এটি বিশ্বের বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন ম্যানগ্রোভ বন, যা অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল। সুন্দরবনে প্রায় ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। প্রধান উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে সুন্দরী ও গেওয়া গাছ। এ ছাড়াও গরান, গেওয়া, পশুর, ধুনদল এবং কেওড়া গাছ উল্লেখযোগ্য। এই বনের শ্বাসমূল মাটির উপরে বেরিয়ে থাকে, যা লোনা পানিতে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। সর্বাধিক প্রচুর গাছের প্রজাতি হল সুন্দরী এবং গেওয়া। বনে ২৯০টি পাখি, ১২০টি মাছ, ৪২টি স্তন্যপায়ী, ৩৫টি সরীসৃপ এবং আটটি উভচর প্রজাতিসহ ৪৫৩টি প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বাসস্থান রয়েছে। ---সুন্দরবনের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাণী হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এ ছাড়াও এখানে চিত্রা হরিণ, বন্য শুকর, বানর এবং বন বিড়াল দেখা যায়। নদীতে দেখা যায় বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতী ডলফিন ও গাঙ্গেয় ডলফিন। মোট চার প্রজাতির ৬ হাজার ডলফিনের মধ্যে ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে সুন্দরবন এলাকায়।

বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় সুন্দরবন জীব বৈচিত্রে অধিকতর সমৃদ্ধ। এই প্রাকৃতিক লীলাভূমির ভৌগলিক গঠন ব-দ্বীপীয়, যার উপরিতলে রয়েছে অসংখ্য জলধারা এবং জলতরে ছড়িয়ে আছে মাটির দেয়াল ও কাদা-চর। সুন্দরবনে প্রধান গাছের মধ্যে: সুন্দরী, কেওড়া, গোলপাতা, গেওয়া, গরান, বাইন, ধুন্দুল, পশুর ইত্যাদি। ম্যানগ্রোভ প্রজাতি: বিশ্বে প্রাপ্ত ৫০টি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির প্রায় ২৬টি সুন্দরবনে ভালো জন্মে। অন্যান্য: এখানে বিভিন্ন ধরনের লবণাক্ততা সহনশীল গাছপালা হাঁটাল পাম দেখা যায়। প্রাণী বৈচিত্র্য ভরপুর স্তন্যপায়ী: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতা হরিণ, বুনো শুয়োর, ভারতীয় উদবিড়াল, মাকড় বানর, ধূসর ডলফিন। সরীসৃপ: নোনাপানির কুমির, ভারতীয় অজগর, বিভিন্ন কচ্ছপ প্রজাতি। জলজ প্রাণী: মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং শামুকের বহু প্রজাতি সমৃদ্ধ সুন্দরবন।

সুন্দরবন পাখিদের স্বর্গরাজ্য। এখানে প্রায় ২১৫ প্রজাতির পাখি রয়েছে, যার মধ্যে মাস্কড ফিনফুট, মাছরাঙা, বক, ঈগল এবং বিভিন্ন যাযাবর পাখি অন্যতম। বনে লোনা পানির কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ কিং কোবরা, অজগর, কচ্ছপ এবং গুইসাপ বাস করে। বনের নদী ও খালে অন্তত ১২০ প্রজাতির মাছ, চিংড়ি এবং কাঁকড়া পাওয়া যায়। দেশের মোট মাছের চাহিদার ৩০ শতাংশ জোগান দেয় সুন্দরবন। এখানকার সামুদ্রিক কচ্ছপ ও ইলিশ মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

সুন্দরবন কেবল জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলকে রক্ষা করে দেশের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। জাতিয় অর্থনীতিতে কাঠ, মধু, মোম, মাছ ও অন্যান্য বনজ সম্পদের মাধ্যমে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সুন্দরবনে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসে। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ করার মাধ্যমে প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করে।

সুন্দরবন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জনসংখ্যা ও তাদের সম্পদের প্রাকৃতিক নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং মানুষের অতিরিক্ত চাপ বনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। বনের বাস্তুসংস্থান রক্ষা করা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ