শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
শুক্রবার ● ৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব
প্রথম পাতা » মুক্তমত » চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব
৮ বার পঠিত
শুক্রবার ● ৩ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব

বাংলা বছরের চৈত্র মাসের শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্রসংক্রান্তি। চৈত্র সংক্রান্তি হলো বাংলা বছরের শেষ দিন এবং বাঙালির একটি অন্যতম প্রাচীন ও অসাম্প্রদায়িক লোক উৎসব। মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে স্নান, দান, ব্রত ও উপবাসের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হলেও, বর্তমানে এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির পরদিনই উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ।

চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক পূজা ও গাজন চৈত্র সংক্রান্তির সবচেয়ে প্রধান ও আকর্ষণীয় উৎসব। শিবতলায় ভক্তরা শিব ও গৌরী সেজে নৃত্য করেন। এ উপলক্ষে গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে। অনেকে সন্ন্যাস গ্রহণ করে শূলফোঁড়া বা বাণফোঁড়ার মতো কষ্টসাধ্য শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে মেলা বসে, যা চৈত্র সংক্রান্তির মেলা নামে পরিচিত। মেলায় ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প, হস্তশিল্প, খেলনা এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ও খাবারের সমারোহ থাকে। মেলায় লোকজ খেলনা, মিষ্টি ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয়।পাশাপাশি লাঠিখেলা, গান ও যাত্রাপালার আয়োজনও করা হয়।

লোকপ্রথা অনুযায়ী, চৈত্র সংক্রান্তির খাবারে এক বিশেষ বৈচিত্র্য থাকে। এই দিনে সাধারণত আমিষ বর্জন করে নিরামিষ বা শাকসবজি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তিতকুটে বা তিতা খাবার খাওয়া, যেমন গিমা শাক, উচ্ছে বা করলা ভাজা। সজনে ডাঁটা বা অন্যান্য মৌসুমি সবজির তরকারি। কাঁচা আমের চাটনি বা টক। তার সঙ্গে দুপুরবেলার খাবারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চৌদ্দ রকমের শাক খাওয়া। তাছাড়া ছাতু, চিড়া, দই, মুড়ি, খই, তিল, নারকেলের নাড়ু ইত্যাদি খাওয়ার প্রচলন আছে।

হিন্দুশাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে এই দিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যময় বলে মনে করা হয়। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে পবিত্র নদীতে স্নান, দান-ধ্যান এবং উপবাস পালন করাকে পুণ্যজনক মনে করা হয়।

শহরাঞ্চলেও বর্তমানে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নাচ, গান ও কবিতার মাধ্যমে চৈত্র সংক্রান্তি এবং পুরনো বছরকে বিদায় জানানো হয়। পুরনো বছরের হিসেব চুকিয়ে ব্যবসায়ীরা নতুন খাতা বা হালখাতা খোলার প্রস্তুতি নেন। এ উপলক্ষে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সাজানো হয়। এই উৎসবের মাধ্যমেই বাঙালিরা পুরোনো সব জরাজীর্ণতা ও গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরের আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা এই সময়ে তাদের প্রধান উৎসব বৈসাবি; বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসু পালন শুরু করে। বৈসাবি নামের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ত্রিপুরার বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। উৎসব তিনটির অদ্যাক্ষর মিলে হয়েছে বৈসাবি। বিজু বা বৈসাবি উৎসব পালন করে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীরা। চাকমা সম্প্রদায়ের মধ্যে এই উৎসবের আমেজ এখনও দেখা যায়। বিজু বা বৈসাবি পালিত হয় দুই দিন ধরে। চৈত্র সংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে এই উৎসব।

চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরু। বাঙালির সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব পালিত হয় এই দুই দিনে। তবে দুয়ের মধ্যে উৎসবের তালিকায় চৈত্র সংক্রান্তির পাল্লা ভারী। বাংলা বর্ষের সর্বাধিক উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চৈত্র সংক্রান্তির দিনটি।

বছরের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে সফলতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় দেখা দেবে নতুন ভোর। পুরনো বছরের সব জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে নতুন প্রত্যাশায় বাঙালি মিলিত হবে পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)