রবিবার ● ২২ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » নাট্যকলা; দর্শকদের সামনে মঞ্চে বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনার অভিনয়
নাট্যকলা; দর্শকদের সামনে মঞ্চে বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনার অভিনয়
প্রকাশ ঘোষ বিধান
থিয়েটার বা নাট্যকলা হলো একটি পারফর্মিং আর্ট, যেখানে অভিনেতারা লাইভ দর্শকদের সামনে মঞ্চে বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনার অভিনয় পরিবেশন করেন। যা মূলত একটি নাট্যশালা বা অভিনয় মঞ্চ। যেখানে লাইভ বা রেকর্ড করা পারফরম্যান্স দেখানো হয়। এতে নাটকের পাশাপাশি সিনেমা দেখার স্থানও বোঝানো হতে পারে, যা মানুষের আবেগ ও সামাজিক সচেতনতা ফুটিয়ে তোলে। তবে বৃহত্তর অর্থে থিয়েটার হল অভিনয়ের উপস্থাপনা। এই উপস্থাপনাটিতে অনেকগুলি দিক রয়েছে, একটি স্ক্রিপ্ট লেখা থেকে শুরু করে মঞ্চায়ন এবং গল্পের বাইরে অভিনয় পর্যন্ত সবকিছু।
সাধারণত মঞ্চের সামনে দর্শকদের বসার ব্যবস্থা থাকে, যেখানে অভিনেতারা জীবন্ত অভিনয় পরিবেশন করেন। চলচ্চিত্র থেকে ভিন্ন, এখানে দর্শক ও অভিনেতার মধ্যে একটি সরাসরি ও তাৎক্ষণিক সম্পর্ক তৈরি হয়। থিয়েটার বিভিন্ন ধরণের হতে পারে, যেমন; নাটক, কমেডি, ট্র্যাজেডি, সঙ্গীত বা পুতুলনাচ। অনেক সময় কোনো ঘটনা বা আচরণ অতিরিক্ত নাটকীয় বা কৃত্রিম হলে তাকে থিয়েটার বা থিয়েট্রিক্যাল বলা হয়। থিয়েটার হলো এমন একটি মাধ্যম যা অভিনয়ের মাধ্যমে গল্প বলে এবং দর্শককে সরাসরি মুগ্ধ করে।
প্রতি বছর ২৭ মার্চ বিশ্বজুড়ে বিশ্ব থিয়েটার দিবস বা বিশ্ব নাট্য দিবস উদযাপিত হয়। ১৯৬১ সালে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট এই দিবসের সূচনা করে। ১৯৬২ সালের ২৭ মার্চ প্রথম বিশ্ব নাট্য দিবস উদ্যাপন। নাট্যশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা, মঞ্চনাটকের প্রচার এবং শান্তির সংস্কৃতি প্রসারে নাটকের ভূমিকা উদযাপনে এই দিনটি পালন করা হয়। বিশ্বজুড়ে থিয়েটার শিল্পের প্রসার, অভিনেতা-কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনে দিবসটি পালিত হয়।
থিয়েটার বলতে সাধারণত এমন একটি স্থান বা শিল্পমাধ্যমকে বোঝায় যেখানে দর্শকদের সামনে সরাসরি অভিনয়, সংগীত বা নাচের মাধ্যমে কোনো কাহিনী বা অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। মঞ্চটি দর্শকদের তিন দিক থেকে ঘিরে থাকে, যা অভিনয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। এটি গ্রিক শব্দ থিয়েট্রন থেকে এসেছে, যার অর্থ দেখার জায়গা।থিয়েটার কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি মঞ্চে সরাসরি অভিনীত নাট্যকলা বা সিনেমা দেখার হল, উভয়কেই বোঝাতে পারে।
থিয়েটারের একটি দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য ইতিহাস রয়েছে। প্রথম নাটকগুলি পঞ্চম শতাব্দীর শুরুর দিকে এথেন্সের অ্যাক্রোপলিসে ডায়োনিসাসের থিয়েটারে উপস্থাপিত হয়েছিল। থিয়েটারগুলি ধীরে ধীরে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। এগুলি এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে দ্রুত গ্রিস জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রায়শই এর উপস্থাপনার সময় এবং স্থান অনুসারে পরিবর্তিত হয়। থিয়েটার শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ থেকে, যার অর্থ দেখা বা দেখার জায়গা।
প্রথম নাটকগুলি পঞ্চম শতাব্দীর শুরুতে এথেন্সের অ্যাক্রোপলিসের ছায়ায় নির্মিত ডায়োনিসাসের থিয়েটারে পরিবেশিত হয়েছিল।১৭৯৫ সালে রুশ মনীষী গেরাসিম লেবেদেফ কলকাতায় প্রথম বাংলা নাট্যমঞ্চ স্থাপন করেন। গিরিশচন্দ্র ঘোষকে বাংলা থিয়েটারের অন্যতম পথিকৃৎ মনে করা হয়। তিনি ১৮৭২ সালে ন্যাশনাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতে নির্মিত প্রথম সিনেমা থিয়েটার হল চ্যাপলিন সিনেমা। যা এলফিনস্টোন পিকচার প্যালেস নামেও পরিচিত। চ্যাপলিন সিনেমা ১৯০৭ সালে জামশেদজি ফ্রামজি মদন দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের নাট্যচর্চা দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী। আমাদের লোকনাট্য যেমন; যাত্রা, গম্ভীরা, পালাগান, আলকাপ। এগুলো গ্রামীণ সমাজে বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে মঞ্চনাটকের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। স্বাধীনতার পর নাট্যচর্চা আরও গতিশীল হয়, বিশেষ করে গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের মাধ্যমে। বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে নাট্যদল সক্রিয় হয়। বর্তমানে সংগঠনগুলো গ্রামাঞ্চলে নাট্যচর্চা ছড়িয়ে দিয়েছে।
নাটক সমাজের দর্পণ। বিশ্বে থিয়েটার বহুবার বিদ্রোহ ও পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ১৯৪৭ সালের পর বামপন্থী আন্দোলন থিয়েটারকে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। বাংলা নাটকের ধারায় পেশাদার দল এবং নাট্যশালার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। গ্রিসের সোফোক্লিসের নাটক থেকে শুরু করে শেক্সপিয়ার, মলিয়ের, ব্রেখট, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, বাদল সরকার, সেলিম আল দীনের নাটক, সবই সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র আন্দোলন ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে নাটকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের থিয়েটার-উন্মাদ শহরগুলির মধ্যে নিউ ইয়র্ক সিটি প্রথম, যেখানে ৪২০টি থিয়েটার রয়েছে। এছাড়াও প্যারিসে রয়েছে ৩৫৩টি, টোকিয়োতে২৩০টি এবং লন্ডনে ২১৪টি থিয়েটার রয়েছে ৷বিশ্বের প্রাচীনতম থিয়েটার হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হল ইতালির ভিসেনজায় অবস্থিত তেত্রো অলিম্পিকো (অলিম্পিক থিয়েটার)। ১৫৮৫ সালের মার্চ মাসে এটির প্রথম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। অস্ট্রিয়ার ক্রেমহফ থিয়েটার হলে মাত্র আটজনের বসার জায়গা রয়েছে। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট নিয়মিত অপারেটিং থিয়েটার। দ্য ফ্যান্টম অফ দ্য অপেরা ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্রডওয়ে শো। ১৯৮৮ সাল থেকে আনুমানিক ইউএসডি ৬ বিলিয়ন আয়ের সঙ্গে চলমান। যা ৩৫টি দেশে ১৪০ মিলিয়নেরও বেশি লোকের কাছে ১৫ টি ভাষায় এবং বিশ্বের ১৬৬টি শহরে পরিবেশিত হয়েছে।
নাটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের প্রতিচ্ছবিও বটে। মানব সভ্যতার আদিকাল থেকেই নাটক মানুষের হাসি-কান্না, প্রেম, বিদ্রোহ ও স্বপ্নকে ধারণ করেছে। মঞ্চের আলো নিভে গেলেও, চরিত্রগুলোর কণ্ঠস্বর সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিধ্বনিত হয়। তাই নাটক শুধুই বিনোদন নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট






২৫ মার্চ কালো রাতের ভাবনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা
পথশিশুদের ঈদ রঙ্গিন ও আনন্দময় হোক
বুদ্ধিমান প্রাণী শিয়াল
শিয়াল লেজের গোড়ার গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায় ও কুকুর এলাকা চিহ্নিত করে
পানিই জীবন
বন ও গাছের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে
ফুলের মৌসুম বসন্ত
রূপালী-ধূসর ধাতু ইউরেনিয়াম 