শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ৪ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্যতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্যতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা
৯ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৪ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্যতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা

সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালের যুগে ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা, সত্যতা ও জনগুরুত্বের চেয়ে ভিউ, লাইক ও শেয়ারই এখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে সাংবাদিকতার মূল আদর্শ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালের যুগে ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা, সত্যতা ও জনগুরুত্বের চেয়ে ভিউ, লাইক ও শেয়ারই এখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে সাংবাদিকতার মূল আদর্শ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অনলাইন মাধ্যমে ভিউ, ক্লিক ও বিজ্ঞাপনের আয় বাড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতাই হলো ভিউ বাণিজ্য। এই প্রবণতা বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় হুমকি। ভিউয়ের পেছনে ছুটতে গিয়ে গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব, অর্থাৎ তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জনস্বার্থ রক্ষা, চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ভিউ বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব চটকদার শিরোনাম ও হলুদ সাংবাদিকতা। সংবাদের ভেতরের চেয়ে ক্লিক-বেইট  বা বিভ্রান্তিকর শিরোনামকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা হলুদ সাংবাদিকতা হিসেবে পরিচিত। তথ্য যাচাই না করেই শুধুমাত্র ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ভিউ বাণিজ্যের ফলে সমাজে অনেক সময় ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে। নামসর্বস্ব কিছু অনলাইন বা আইপিটিভির কারণে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকতা তার মর্যাদা হারাচ্ছে। ভিউয়ের নামে গুজব ও চাঁদাবাজি রোধে গণমাধ্যমের জন্য উপযুক্ত আইনি কাঠামো ও নীতিমালা প্রয়োজন। দর্শক ও পাঠকদের চটকদার খবরের বদলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।  ভিউয়ের দাসত্ব থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমকে গুণগত মান ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ওপর জোর দিতে হবে।

ভিউ বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাবে চটকদার শিরোনাম সংবাদের ভেতরের মূল বিষয়ের সাথে মিল না রেখে আকর্ষণীয়, বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা শিরোনাম ব্যবহার করা হয়, যা পাঠকদের প্রতারিত করে। চাঞ্চল্যকর বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে সমাজে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। অনেক সময় অপরাধী ও মাদক কারবারিরাও নামসর্বস্ব পোর্টালের কার্ড ব্যবহার করে অপকর্ম চালাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবমূল্যায়ন করা। জাতীয় সংকট, অর্থনীতি, শিক্ষা বা আন্তর্জাতিক খবরাখবরের চেয়ে গসিপ, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অনৈতিক বিষয়বস্তু বেশি প্রচার পায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও, ছবি বা ফটোকার্ড বানিয়ে টার্গেটেড ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেনস্থা করা হয়, যা শিকারি সাংবাদিকতা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

পেশাদারিত্ব রক্ষা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধিতে পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্য প্রয়োজন। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। ভিউ বাণিজ্যের ফাঁদে না পড়ে যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা আবশ্যক।

পাঠক বা দর্শক হিসেবে আমাদেরও ভিউ ও ক্লিকবেট নির্ভর সংবাদ এড়িয়ে চলতে হবে। খবরের সত্যতা যাচাই না করে তা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।  প্রেস কাউন্সিল সহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অনলাইন পোর্টাল ও আইপিটিভিগুলোর সঠিক নিবন্ধন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ জরুরি।





আর্কাইভ