শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

SW News24
রবিবার ● ১৪ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » শালিখায় আঙুর চাষে সফল প্রবাস ফেরত মজিদ
প্রথম পাতা » কৃষি » শালিখায় আঙুর চাষে সফল প্রবাস ফেরত মজিদ
৭ বার পঠিত
রবিবার ● ১৪ জুন ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শালিখায় আঙুর চাষে সফল প্রবাস ফেরত মজিদ

---মাগুরা প্রতিনিধি : একসময় যে আঙুরকে বিদেশি ফল হিসেবেই চিনতেন স্থানীয় মানুষ, সেই আঙুরই এখন ঝুলছে মাগুরার শালিখার একটি বাগানে। থোকায় থোকায় লাল, সবুজাভ ও কালো রঙের আঙুরে ভরে উঠেছে বাগান। দেশের মাটিতে বিদেশি এ ফলের সফল চাষ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের প্রবাসফেরত কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ শেখ।
তার আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার অনেকে সরাসরি বাগান থেকে আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে বাগানটি এখন এক ধরনের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুল মজিদ শেখ ২০২৫ সালে শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করেন। শতখালী-রজকিনী চণ্ডীদাস সড়কের পাশে প্রায় ২০ শতক জমিতে গড়ে তোলেন আঙুরের বাগান। শুরুতে চারটি চারা রোপণ করলেও বর্তমানে তার বাগানে বিভিন্ন জাতের আঙুরের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইগোনর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক এম্পায়ার, ভেলেজ, রিকসন, একোলো, গ্রিন লং ও জ্যোতি ব্ল্যাক সিডলেস।
মজিদ শেখ জানান, মালয়েশিয়ায় থাকাকালে চীনা কৃষকদের আঙুর চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি।দেশে ফেরার সময় কয়েকটি চারা এনে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করি। পরে যশোর, দর্শনা, রাজশাহী ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে বাগান সম্প্রসারণ করি। বিশেষ করে জ্যোতি ব্ল্যাক সিডলেস জাতটি  বাগানে ভালো ফলন দিয়েছে তিনি আরও বলেন, প্রথমে অনেকেই সন্দেহ করতেন এ এলাকায় আঙুর হবে কি না। কিন্তু এখন ফলন দেখে সবাই অবাক হচ্ছেন। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ৯ থেকে ১০ মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এ বছর প্রায় ১৫ মণ আঙুর উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ৫ মণ বিক্রি করেছি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাগান থেকেই ক্রেতারা আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি সহায়তা পেলে আঙুর চাষ আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
মজিদ বলেন, আমার অর্থের প্রয়োজন নেই। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি পরামর্শ ও যান্ত্রিক সহায়তা পেলে আঙুর চাষ আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব। এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
আঙুরের পাশাপাশি তিনি বেদানা, আপেল, কাঠিমন আম ও চায়না-থ্রি জাতের ফলগাছের চারা উৎপাদনও করছেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আমরা আগে ভাবতাম আঙুর শুধু বিদেশেই হয়। কিন্তু মজিদ ভাইয়ের বাগানে এসে দেখে বুঝলাম আমাদের এলাকাতেও সফলভাবে আঙুর চাষ সম্ভব। তার বাগান দেখে আমিও ছোট পরিসরে আঙুর চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করছি।
কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ধান, পাট আর সবজির পাশাপাশি আঙুর চাষ যে লাভজনক হতে পারে, তা মজিদ ভাই দেখিয়ে দিয়েছেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পেলে এলাকার আরও অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আমি মনে করি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে শুধু বাজারে আমদানি করা আঙুরই দেখা যেত। এখন নিজ এলাকার মাটিতে আঙুর ফলতে দেখে তারা আনন্দিত ও বিস্মিত। অনেকেই মজিদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আঙুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, আঙুর একটি বিদেশি ফল হলেও বর্তমানে শালিখার বিভিন্ন এলাকায় এর চাষাবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে। অনেক কৃষক সফলতাও পাচ্ছেন। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। বর্তমানে উপজেলায় দুই বিঘারও বেশি জমিতে আঙুর চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে আঙুর চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
প্রচলিত কৃষির বাইরে এসে বিদেশি ফল আঙুর চাষে সফলতা অর্জন করে আব্দুল মজিদ শেখ শুধু নিজের স্বপ্নই বাস্তবায়ন করেননি, শালিখার কৃষিতেও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। স্থানীয়দের মতে, তার এ উদ্যোগ এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল।





আর্কাইভ