শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

SW News24
মঙ্গলবার ● ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভালোবাসায় সুন্দরবন দিবস পালিত হোক
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভালোবাসায় সুন্দরবন দিবস পালিত হোক
২৫০ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভালোবাসায় সুন্দরবন দিবস পালিত হোক

 

প্রকাশ ঘোষ বিধান =---

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন। সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুন্দরবন অতুলনীয় ও অসাধারণ জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। এটি শুধু বাংলাদেশের মানুষের কাছে নয়, বিশ্বের প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় স্থান। সুন্দরবন প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখন্ড বনভূমি।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে সুন্দরবন দিবস। ১৪ ফেব্রুয়ারী সুন্দরবন দিবস। এবার পালিত হচ্ছে ২৩তম সুন্দরবন দিবস। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারীকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন প্রতিপাদ্যে উপকূলীয় এলাকায় দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এদিন একাধিক দিবস আছে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আড়ালে কিছুটা হলেও সুন্দরবন দিবসটি ঢাকা পড়ে যায়। ভালোবাসা দিবসের সাথে আমরা সকলেই সুন্দরবনকে যেন ভালোবাসি। সুন্দরবনের প্রতি ভালোবাসা আর মমতা সৃষ্টিতে ১৪ ফেব্রুয়ারী দেশজুড়ে পালিত হয় সুন্দরবন দিবস। আমরা ভালোবাসা দিবসের সাথে সুন্দরবন কে একটু ভালোবাসলাম। তাতে তো কোন কিছুই কম পড়বে না।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হচ্ছে সুন্দরবন। প্রাণবৈচিত্র্যে ভরপুর এই বন লাখো মানুষের জীবিকার সংস্থান করে চলেছে। ঝড়-ঝঞ্ঝায় এখনও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বাঁচাতে সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম। বনের প্রতি অতিনির্ভরতা এবং মানুষের নির্বিচার আচরণে দিন দিন বিপন্ন হচ্ছে এর পরিবেশ ও প্রতিবেশ। প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মায়ের মত উপকূলের কোটি-কোটি মানুষকে নিরাপদে আগলে রাখলেও সুন্দরবন এখন নিজেই ভালো নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণসহ ম্যানগ্রোভ এই বনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী চোরা শিকারি ও কাঠ পাচারকারীদের কারণে সুন্দরবন এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বনখেকোদের আগ্রাসনের ফলে আজ সুন্দরবন ধ্বংসের মখে পড়েছে। সুন্দরবন কে ভালোবেসে তা রক্ষা করা উচিত। তবে বনবিভাগ বলছে তারা আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট প্রেট্রোলিংসহ সুন্দরবনের প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে বিশ্বে সুন্দরবন পরিচিত। সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর মোট আয়তন ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার।

ভয়ঙ্কর সুন্দর এই বন। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টায় ৬ বার তার প্রাকৃতিক রূপ বদলায়। বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানিতে দিনে দুইবার প্লাবিত হয়। এই বনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগই হচ্ছে জলাভূমি। সুন্দরবনের মোট আয়তনের ৫২ ভাগই এখন ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট (বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা)। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই জলাভূমি ‘রামসার’ এলাকা হিসেবে স্বীকৃত। সুন্দরবনে রয়েছে ৫ হাজার প্রজাতির সম্পূরক উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ৩০ প্রজাতির চিংড়ি মাছ। সুন্দরীসহ এই বনে রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। বাঘ, হরিণ, কুমির, শুকর, গোখরা, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতীসহ ৬ প্রজাতির ডলফিনসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ২১০ প্রজাতির মৎস্য সম্পদ। বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য অধিকতর সমৃদ্ধ। তাই সুন্দরবনকে বলা হয় জীববৈচিত্র্যের পাঠশালা।

সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখন্ড বনভূমি। ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ইউনেস্কোর ২১তম অধিবেশনে সুন্দরবন এই স্বীকৃতি লাভ করে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, অধিক মানুষের বসবাস ও ব্যাপক অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহারের ফলে দিনে দিনে সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে এই বন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে সুন্দরবনের আয়তন ছিল বর্তমানের প্রায় দ্বিগুণ। আর তাই হুমকির মুখে পড়া সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সাধারণ জনগনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই দিবসের উদ্ভব।

সুন্দরবনকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। সুন্দরবন আমাদের ঐতিহ্য। একটা দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার কিন্তু আমাদের দেশে ১৭ ভাগ বনভূমি আছে, যা দিন দিন কমে আসছে। সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মায়ের মতন উপকূলের কোটি-কোটি মানুষকে নিরাপদে রাখে। আবার এই জনপদের লাখ-লাখ মানুষের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বনও সুন্দরবন। কিন্ত প্রতিনিয়ত বনখেকোদের আগ্রাসনের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ হুমকির মুখে। সুন্দরবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ গোটা দেশের পরিবেশ। তাই এ বন রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রকৃতিকে ভালোবেসে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

উপকুল আঞ্চলে মানুষের জীবন প্রবাহের সাথে সুন্দরবন আবর্তিত। আবহমান কাল সুন্দরবনের সাথে মানুষের নিবীড় ঘনিষ্ঠতা। এই অর্থে সুন্দরবনের ভাল-মন্দ এ অঞ্চলের মানুষকে নাড়া দেয়। সুন্দরবন দিবসে আলোচনায় অতিথিবৃন্দ, বিশেজ্ঞরা ও সুন্দরবন প্রেমীদের জোরালো দাবি জাতীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস পালন করা হোক। এ কোন আবেগ নয়, বাস্তবতায় অত্যন্ত যৌক্তিক।  জাতিয়ভাবে সুন্দরন দিবস পালন এখন সময়ের দাবি। সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস পালনের কোন বিকল্প নেই। সুন্দরবন সুরক্ষা করতে সরকার নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাই দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করা হলে সুন্দরবনের গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতাও বাড়বে। তাই প্রকৃতিকে ভালোবেসে এ বন রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি সরকারকেই সুন্দরবনের গুরুত্ব বুঝতে হবে। তাহলে রক্ষা পাবে সুন্দরবন।

লেখক; সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)