শুক্রবার ● ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » নারীর জীবিকা লড়াই
নারীর জীবিকা লড়াই
প্রকাশ ঘোষ বিধান
বাংলাদেশে নারীর জীবিকা নির্বাহের লড়াই বহুমাত্রিক। এটি কেবল উপার্জনের চেষ্টা নয়, বরং সামাজিক বাধা অতিক্রম করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি সংগ্রাম। নারীর জীবিকা লড়াই হলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে টিকে থাকার এক অদম্য সংগ্রাম। কর্মজীবী নারীরা ঘরে-বাইরে সমান দায়িত্ব পালন, কম মজুরি এবং সামাজিক বাধা জয় করে নিজেদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে নিরন্তর লড়াই করছেন।
নারীকে তার অধিকার আদায়ের জন্য আদিকাল থেকে এখন পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হচ্ছে। নারী সংগ্রামের এই ক্রান্তিকাল কোনো অবস্থাতে যেন শেষ হচ্ছে না। উন্নত বিশ্বের নারীরা যাও বা নিজেদের স্বাধীন করতে পেরেছে কিন্তু আমাদের মতো দেশের নারীরা ক্রমশই হতাশার দুর্বিপাকে ডুবে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সংগ্রাম: বর্তমানে নারীরা ঘরোয়া কাজের পাশাপাশি বাইরের জগতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। তারা পোশাক শিল্প, করপোরেট অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় একই কাজে কম মজুরি পাওয়া এবং পদোন্নতিতে বাধার সম্মুখীন হওয়ার মতো বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই করতে হয়। এই বৈষম্যের শিকড় সমাজের গভীরে পোঁতা হয়েছে।
পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য: একজন কর্মজীবী নারীকে একই সাথে ঘর সামলানো, সন্তান পালন এবং অফিসের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই ডাবল বার্ডেন বা দ্বৈত বোঝা নারীদের জীবিকা লড়াইয়ের সবচেয়ে কঠিন অংশ। পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া এই ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরাপত্তা: পেশা নির্বিশেষে নারীদের প্রায়ই সামাজিক নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে রাত বিরেতে কাজ করা বা বাইরে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক নির্যাতন নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ নারী: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ নারীরা হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প বা কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। পুঁজির অভাব এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ কম থাকা সত্ত্বেও তারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষার অভাব ও দক্ষতা উন্নয়ন: অনেক নারী পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাবে নিম্ন আয়ের কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হন। অনেক নারী শুধুমাত্র ঘরকন্নায় সীমাবদ্ধ, যাদের কাজের কোনো আর্থিক স্বীকৃতি বা মজুরি নেই।
নারীর জীবিকার লড়াই মূলত আত্মমর্যাদা এবং সমঅধিকারের লড়াই। রাষ্ট্রীয় আইন, সামাজিক সচেতনতা এবং পারিবারিক সমর্থন পেলে নারীরা কেবল নিজের নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তাদের এই দীর্ঘ পথচলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো ধৈর্য এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই আয়ের পথ খুঁজছেন। দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর বিভিন্ন কোর্স সহায়ক হতে পারে।
পরিবর্তন আনার দায়িত্ব আমাদের সবার। নারীরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়ায় এবং পুরুষরা যদি নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, তবে সমাজের এই গোঁড়ামি ভাঙতে সময় লাগবে না। নারীর জীবন সহজ বা সুরক্ষিত করার জন্য শুধু আইন বা নীতি নয়, প্রয়োজন পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তন। নারী-পুরুষ সবাই মিলে যদি মানবিক মূল্যবোধে জাগ্রত হয়, তবে এ বৈষম্যের যুগের অবসান ঘটবে।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট






সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে প্রাকৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ
আফ্রিকার আকি ফল
সরস্বতী পূজার শাস্ত্রীয় গুরুত্ব
লোকাচার এবং শাস্ত্রীয় ধর্ম এক নয়
সুন্দরবন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুন্দরবনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
তীব্র শীত-কুয়াশায় কৃষিখাতে বিরূপ প্রভাব ; বাড়ছে কৃষকের দুশ্চিন্তা
পথপ্রাণীদের জীবনে শীতের প্রভাব
টিনটিনের চিরসবুজ অ্যাডভেঞ্চার 