শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
বুধবার ● ১ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » অটিজম কোনো রোগ নয়; মস্তিষ্কের বিকাশজনিত বিশেষ অবস্থা
প্রথম পাতা » মুক্তমত » অটিজম কোনো রোগ নয়; মস্তিষ্কের বিকাশজনিত বিশেষ অবস্থা
৫৭ বার পঠিত
বুধবার ● ১ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

অটিজম কোনো রোগ নয়; মস্তিষ্কের বিকাশজনিত বিশেষ অবস্থা

---  প্রকাশ ঘোষ বিধান

অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশজনিত একটি বিশেষ অবস্থা। এটি সাধারণত শিশুর জন্মের প্রথম ৩ বছরের মধ্যেই প্রকাশ পায় এবং ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগ, আচরণ ও শেখার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার বলা হয়। অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার এটি একটি জীবনব্যাপী অবস্থা, যার সঠিক থেরাপি ও সাপোর্টের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।

অটিজম আক্রান্তদের আমাদের সমাজের অনেকেই অবহেলার চোখে দেখে থাকেন। কিন্ত, প্রকৃতপক্ষে অটিজম কোনো অভিশাপ নয়, এটি এক ভিন্নধর্মী মানসিক বিকাশ। সমাজে এই ধরনের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সচেতনতা ও একটু সহানুভূতি।

২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে, ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য হলো অটিস্টিক ব্যক্তিদের সমাজের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করা। দিবসটির সমর্থনে অনেক ক্ষেত্রে নীল রং ব্যবহার করা হয়। মানুষকে অটিজম সম্পর্কে ইতিবাচকভাবে জানানো এবং অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

অটিজমের প্রধান লক্ষণসমূহ যেমন; চোখের দিকে তাকিয়ে কথা না বলা, নামে সাড়া না দেওয়া এবং আবেগ বুঝতে না পারা। দেরিতে কথা বলা বা একই শব্দ বারবার বলা। নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা, পরিবর্তন অপছন্দ করা এবং একই কাজের পুনরাবৃত্তি করা। উচ্চ শব্দ, নির্দিষ্ট গন্ধ বা আলোতে অতিরিক্ত সংবেদনশীল হওয়া। হাত নাড়ানো, একই জায়গায় গোল হয়ে ঘোরা বা কোনো নির্দিষ্ট খেলনা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকা। দৈনন্দিন কাজের সামান্য পরিবর্তনেও অনেক সময় তারা খুব বিচলিত হয়ে পড়ে।

অটিজমের সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা হলেও, এটি জেনেটিক এবং পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণে হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্য এবং জন্মগত ঝুঁকিও এর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে আচরণ পর্যবেক্ষণ করে অটিজম নির্ণয় করা হয়। অটিজমের কোনো নিরাময় নেই, তবে স্পিচ থেরাপি, অকিউবেশনাল থেরাপি এবং বিহেভিয়ারাল থেরাপির মাধ্যমে শিশুদের যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়।প্রথম থেকেই সঠিক যত্ন, ভালোবাসা এবং থেরাপির মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুরাও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষায়িত স্কুল বা শিক্ষাব্যবস্থা তাদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্য ও সমাজের মানুষের সহানুভূতি এবং সঠিক পরিবেশ শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

লেখক; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ