সোমবার ● ২৯ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » ডাঙ্গার পলিথিন ও পিলাস্টিক নদী সুন্দরবন ঘুরে ফিরছে পাতে
ডাঙ্গার পলিথিন ও পিলাস্টিক নদী সুন্দরবন ঘুরে ফিরছে পাতে
শহরের ও ডাঙ্গার যত্রতত্র ফেলা পলিথিন ও প্লাস্টিক বৃষ্টির পানি, ড্রেন ও নদী হয়ে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে মিশছে। এই বর্জ্য খেয়ে বন্যপ্রাণী মারা পড়ছে এবং ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক হিসেবে মাছের পেটে ঢুকছে। পরিশেষে, এই বিষাক্ত খাদ্যচক্র সরাসরি ফিরে আসছে মানুষের ডাইনিং টেবিলের পাতে, যা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
প্লাস্টিক ও পলিথিন নদী হয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে ভয়াবহ দূষণ তৈরি করছে। সুন্দরবন সংলগ্ন ৫৪টি নদীর মাধ্যমে শহর ও লোকালয়ের বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য প্রতিদিন ম্যানগ্রোভ বনে প্রবেশ করছে। হরিণ, কুমির, ডলফিন ও বানরের মতো বন্যপ্রাণী খাবার ভেবে পলিথিন খেয়ে ফেলছে, যা তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গবেষণায় সুন্দরবনের বিভিন্ন মাছ ও কাঁকড়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, যা মানবদেহে প্রবেশ করে ক্যান্সার ও হরমোনজনিত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
পলিথিন ব্যাগ, ওয়ান-টাইম গ্লাস বা প্লেটের বদলে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ এবং কাগজের ব্যবহার বাড়াতে হবে। সুন্দরবনে পর্যটকদের যত্রতত্র প্লাস্টিক বোতল ও প্যাকেট ফেলা রোধে কড়াকড়ি আরোপ করা জরুরি।
সুন্দরবনের নদী-নালা ও লোকালয় থেকে ভেসে আসা পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের পাতেই ফিরে আসছে। বর্তমান সময়ের একটি ভয়াবহ পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত সংকট। ডাঙ্গা বা লোকালয়ে আমাদের ফেলে দেওয়া ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিন জোয়ার-ভাটার স্রোতে সুন্দরবনের নদীগুলোতে প্রবেশ করছে এবং তা পরোক্ষভাবে মানুষের শরীরে ঢুকছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন লোকালয়, বাজার এবং পর্যটকদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য জোয়ারের টানে সুন্দরবনের নদী ও খালের ভেতরে চলে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের ভেতর ও বাইরে থাকা ৫৪টি নদীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন প্লাস্টিক প্রবেশ করছে।পর্যটন ও অসচেতনতা: পর্যটকদের ফেলে যাওয়া চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল, এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের থালা-বাসন এই দূষণকে আরও তীব্র করছে।২. যেভাবে এটি আমাদের পাতে ফিরছে (মাইক্রোপ্লাস্টিক চক্র)মাইক্রোপ্লাস্টিকে রূপান্তর: পানিতে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক রোদ এবং স্রোতের কারণে ধীরে ধীরে ভেঙে ৫ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়।মাছ ও জলজ প্রাণীর খাদ্য: সুন্দরবনের প্রধান নদীগুলোর অন্তত ১৭ প্রজাতির মাছ এবং ৩ প্রজাতির শেলফিশ (চিংড়ি ও কাঁকড়া) এই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলোকে খাবার ভেবে গিলে ফেলছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের প্রতি কেজি মাছ গড়ে ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক বহন করছে। যখন এই মাছগুলো মানুষের শিকার বা বাজারের মাধ্যমে আমাদের খাবার টেবিলে (পাতে) আসছে, তখন প্লাস্টিক সরাসরি মানবদেহে প্রবেশ করছে।
মানবদেহে এর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপ্লাস্টিক ও পলিথিন তৈরিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করার ফলে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিচ্ছে। প্লাস্টিকের কণা মানুষের পেটে জমা হয়ে কার্সিনোজেন তৈরি করে, যা ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে এই কণাগুলো লিভার, কিডনি এবং অন্ত্রের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এটি হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা এবং এর সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।






পাইকগাছায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সুন্দরবনে বাঘিনীর প্রত্যাবর্তন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের নতুন আশাবাদ
সুন্দরবনের বনমোরগ
নদী সুন্দরবন ঘুরে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফিরছে পাতে
খুলনায় জার্নালিজম ফর সুন্দরবন এর সভা ও সম্মাননা প্রদান
খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থান পেল খানজাহান আলী মাজারের কুমির
পহেলা জুন থেকে আগস্ট তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ 