শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

SW News24
রবিবার ● ৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভিউ নির্ভর সাংবাদিকতায় মর্যাদা হ্রাস পাচ্ছে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ভিউ নির্ভর সাংবাদিকতায় মর্যাদা হ্রাস পাচ্ছে
৬৫ বার পঠিত
রবিবার ● ৪ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভিউ নির্ভর সাংবাদিকতায় মর্যাদা হ্রাস পাচ্ছে

---প্রকাশ ঘোষ বিধান

বর্তমান সময়ে ভিউ-নির্ভর সাংবাদিকতা বা ক্লিকবেট সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের গুণগত মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক আর সাংবাদিকতাকে বলে ফোর্থ পিলার অব স্টেট। আর সংবাদপত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের একটি অংশের ভিউ-নির্ভর আচরণ সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নিউজের চেয়েও ভিউজের দিকে মনোযোগ বাড়াতে গিয়ে অতি উৎসাহ ও অপরিণামদর্শী আচরণ প্রদর্শন করে সাংবাদিকতাকে হাসির খোরাক বানিয়েছে। অত্যুৎসাহী কিছু সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ নিউজগুলোতে ফোকাস না দিয়ে কোনটাতে ভিউ বাড়বে ডলার আসবে তার নেশায় মগ্ন। ভিউ বাড়ানোর নেশায় সাংবাদিকতা নীতি-নৈতিকতা মানা হচ্ছে না। সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতার সংজ্ঞাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ভিউ নির্ভর সাংবাদিকতা পেশার নৈতিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে। চাঞ্চল্যকর ও ভুয়া তথ্যের ওপর জোর দিয়ে শুধু ভিউ বা ক্লিক বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা হলুদ সাংবাদিকতারই নতুন রূপ। এর ফলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সমাজে ভুল তথ্যের বিস্তার ঘটছে এবং নতুন প্রজন্মের রুচি ও সৃজনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভিউ-নির্ভরে সংবাদের গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে। কেবলমাত্র ভিউ পাওয়ার আশায় অনেক সময় সংবাদের মূল তথ্যের চেয়ে চটকদার শিরোনামকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে সংবাদের গভীরতা বা বস্তুনিষ্ঠতা হারিয়ে যায়। ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত সংবাদ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই প্রকাশ করার প্রবণতা বাড়ছে। এতে সমাজে বিভ্রান্তি এবং গুজব ছড়াচ্ছে।

ভিউ-নির্ভরে সাংবাদিকতার নৈতিকতা লঙ্ঘন হচ্ছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করা বা সংবেদনশীল বিষয়কে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিউয়ের নেশায় তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। দ্রুত টাকা আয় করতে অনেকে তারকাদের পুরোনো ভিডিও বা ভুয়া সাক্ষাৎকার ব্যবহার করে, যা অপতথ্য ছড়ায়।সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর চেয়ে সস্তা বিনোদন বা বিতর্কিত বিষয়গুলো বেশি প্রচার পায়, কারণ এগুলোতে ভিউ বেশি আসে। এর ফলে জনসচেতনতা তৈরির মূল দায়িত্ব থেকে গণমাধ্যম বিচ্যুত হচ্ছে। পাঠক বা দর্শক যখন বারবার চটকদার শিরোনামের ভেতরে অসার তথ্য পায়, তখন তারা মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে। সৃজনশীল মানুষ ও নতুন প্রজন্মের রুচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ তারা ভালো মানের কনটেন্টের পরিবর্তে ক্লিকবেট কনটেন্ট দেখতে বাধ্য হয়।

ভিউ বাড়ানোর জন্য হলুদ সাংবাদিকতা, ভুল তথ্য, চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকতার উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে এবং এর ফলে সাংবাদিকের মর্যাদা হ্রাস পাচ্ছে ও ভুয়া সাংবাদিকতার প্রসার ঘটছে। ভুয়া সাংবাদিক ও ভিউ শিকারিদের কারণে সৎ ও পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সাংবাদিকতার মূল নীতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে, যেমন সত্যতা, নিরপেক্ষতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে উপেক্ষা করা।

ভিউয়ের প্রবণতার ফলে সাংবাদিকতায় যে ক্ষতি হচ্ছে তা হলুদ সাংবাদিকতার পর্যায় পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পাঠকদের সচেতন হওয়া এবং গণমাধ্যমগুলোকে ভিউয়ের চেয়ে গুণগত মান ও বস্তুনিষ্ঠতায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের নৈতিকতার ওপর জোর দেওয়া এবং মানসম্পন্ন, বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতা অনুশীলন করা।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ