শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ২২ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » আফ্রিকার আকি ফল
প্রথম পাতা » মুক্তমত » আফ্রিকার আকি ফল
১৩৬ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২২ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

আফ্রিকার আকি ফল

---  প্রকাশ ঘোষ বিধান

আকি ফল পশ্চিম আফ্রিকার স্থানীয় একটি ফল। যা জ্যামাইকার জাতীয় ফল হিসেবে পরিচিত। এটি দেখতে অনেকটা নাশপাতির মতো, লালচে বা হলুদ রঙের হয়। পাকার পর ফেটে ভেতরের নরম, সাদা অংশ বেরিয়ে আসে, যা রান্না করে খাওয়া হয়। এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও কাঁচা বা অপরিপক্ক ফল মারাত্মক বিষাক্ত, তাই সাবধানে খেতে হয়। রান্না করলে এর স্বাদ কিছুটা বাদামের মতো বা নোনতা, বা ভিন্ন স্বাদের। প্রোটিন, ভিটামিন বি ও সি, জিঙ্ক, আয়রন,পটাশিয়াম এবং ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ।

বাংলাদেশে আকি ফলের চাষ এখনও ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শৌখিন বাগানীদের মাধ্যমে এই বিদেশি ফলটি দেশে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে। উপকূলীয় জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় আকি ফলের চাষ শুরু হয়েছে। ফেরি করে বাজারে বিক্রি করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ বিবেচনা করে এর সীমিত পরিসরে চাষের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে আকি ফল কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।

আকি ফল বাংলাদেশে একটি অপরিচিত ফল। আকি মূলত পশ্চিম আফ্রিকার ফল হলেও এটি জ্যামাইকার জাতীয় ফল হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি দেখতে অনেকটা নাশপাতির মতো এবং পাকার পর লালচে বা হলুদ রঙ ধারণ করে। আকি ফল প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি ,ভিটামিন বি -৩, কাব্রোহাইড্রে, প্রোটিন, ফেটি-এসিড, লাইনলিক, পালমিটিক, স্টিয়ারিক ও ফলিক এসিড,পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ। ডায়াবেটিস, উচ্চ-রক্তচাপ ও হৃদরোগসহ বহু রোগের উপকারী। অত্যন্ত পুষ্টিকর ফ্যাট ও কোলেস্টেরল ফ্রি। আকি ফলের আদী উৎপত্তি ক্রান্তীয়-পশ্চিম আফ্রিকার দেশসমূহ। বর্তমানে পূর্ব নাইজেরিয়া, ক্যারেবিয়ান অঞ্চল, ইউরোপ ও ভারতসহ পৃথিবির বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হয়। এটি বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের বিভিন্ন নামে পরিচিত। এই ফল বীজের গাছেই তিন-চার বছরের মধ্যে এবং কাটিং এর গাছে এক-দুই বছরের মধ্যেই ফল দেয়।

বাংলাদেশের আবহাওয়াতে সহজেই আকি ফলের চাষ করা যায়। আকি একটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফল। এটি উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ভালো জন্মে, যা বাংলাদেশের জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৫°সে. থেকে ৩৮°সে. তাপমাত্রা এই গাছ বাড়ার জন্য আদর্শ। হালকা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো এমন দোআঁশ মাটিতে আকি ভালো হয়।

জ্যামাইকার জাতীয় খাবার আকি ও সল্ট ফিশ খুবই জনপ্রিয়। এটি সেদ্ধ করে, দুধে বা অন্যান্য খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। অপরিপক্ক আকি ফল মারাত্মক বিষাক্ত। এতে হাইপোগ্লাইসিন নামক টক্সিন থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয় এবং খিঁচুনি, কোমা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। শুধুমাত্র সম্পূর্ণ পাকা এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় রান্না করা আকি ফল খাওয়া উচিত।

তবে বর্তমানে এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে, বিশেষ করে জ্যামাইকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি পশ্চিম আফ্রিকার স্থানীয় ফল। দাসপ্রথার মাধ্যমে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে, বিশেষত জ্যামাইকায় ছড়িয়ে পড়ে।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ