শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » পাইকগাছায় সজিনা গাছ ডালে ডাল ভর্তি ক্রিম-সাদা রঙের সুগন্ধি ফুলে ভরে গেছে
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » পাইকগাছায় সজিনা গাছ ডালে ডাল ভর্তি ক্রিম-সাদা রঙের সুগন্ধি ফুলে ভরে গেছে
৭ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছায় সজিনা গাছ ডালে ডাল ভর্তি ক্রিম-সাদা রঙের সুগন্ধি ফুলে ভরে গেছে

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা ঃ পাইকগাছায় সাদা সাদা গুচ্ছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ। ডালের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফুল আর ফুল। এ সময় সজিনা গাছের পাতা ঝরে পড়তে শুরু করে। পাতা শুন্য ডালে থোকা থোকা সাদা ফুলের শোভা দেখে সকলে মোহিত হয়। সজিনা ফুল ফোটার দৃশ্য প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় এবং স্থানীয়দের জন্য সুস্বাদু সবজির আগমন বার্তা বয়ে আনে।

সাধারণত শীত মৌসুমের শেষে বা বসন্তের শুরুতে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে। সজিনা ফুলগুলো ক্রিম-সাদা রঙের এবং সুগন্ধিযুক্ত হয়ে থাকে। ডাল জুড়ে সাদা ফুলে ভরে ওঠে, যা দেখতে অত্যন্ত মনোরম। সজিনা ফুল দিয়ে চচ্চড়ি, পাকোড়া বা বড়া তৈরি করা যায়, যা বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এটি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছ, যার ফুল ও ডাঁটা উভয়ই সুস্বাদু সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে নতুন পুরাতন প্রায় ২৫ হাজার ৫শত সজিনা গাছ আছে। প্রতি বাড়ীতে কমপক্ষে ৩/৪ টি গাছ রয়েছে। এসব গাছ বাড়ীর পাশে ও ক্ষেতের আইলে লাগানো। যত্ন ছাড়াই এসব গাছ বেড়ে উঠেছে। গাছে ফলনও বেশী হয়। প্রতি বছর প্রায় আড়াই হেক্টর জমিতে সজিনার শাখা বা ডাল রোপন করা হয়েছে। যার সংখ্যা প্রায় ২২শত ৫০টি, তবে রোপনকৃত ডালের প্রায় ৩০ শতাংশ মারা যায়।

দেশে ২টি জাত আছে, একটি হালো সজিনা ও আর একটি নজিনা। সজিনার ফুল আসে জানুয়ারীতে আর নজিনা ফুল আসে মার্চ মাস থেকে। তবে সব ফুল থেকে ফল হয় না। একটি থোকায় সর্বাধিক ১৫০টি মত ফুল ধরে। ফুল ৪০ সেঃ মিঃ থেকে ৮০ সেঃ মিঃ পর্যন্ত লম্বা হয়। ফুল ফুটার ২ মাস পর ফল তোলা যায়। একটি বড় গাছে ৪শত থেকে ৫ শত ফল ধরে। প্রতিটি ফলে ৩০-৪০ টি বীজ হয়। দেশে সাধারণ ডাল কেটে ডাল রোপন করে সজিনা গাছ লাগানো হয়। ভারত থেকে হাইব্রিড সজিনার জাত এদেশে এসেছে। এ জাতের বীজ বপন করে লাগাতে হয়। হাইব্রিড জাতের সজিনা গাছে দুইবার ফুল আসে ফেব্রুয়ারী-মার্চ ও জুন-জুলাই মাসে। যা বারোমাসি সজিনা নামে পরিচিত।

উপজেলার লবণাক্ত মাটিতে সজিনা আবাদ ভাল হচ্ছে। উপজেলার প্রতি বাড়ীতে কমবেশি ৩/৪টি করে সজিনা গাছ আছে। বসতবাড়ীর আশে পাশে রাস্তার ধারে ক্ষেতের আইলে লাগানো সজিনা গাছ যত্ন ছাড়াই অবহেলার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। সজিনা চাষিরা উচ্চ মূল্য পাওয়ায় সজিনার ডাল রোপন করতে উৎসাহিত হচ্ছে।

পাইকগাছা উপজেলা কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: একরামুল হোসেন জানান, ঠান্ডা-গরম, লবণ, খরা সহিষ্ণু এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। এ বছর সজিনা গাছে ব্যাপক ফুল ধরেছে। বড় ধরণের দূর্যোগ না হলে সজিনার বাম্পার ফলন আশা করা যায়। সজিনার ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চ মুল্যে বিক্রি হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা এখন পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে সজিনা গাছ লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে। সজিনা পুষ্টিকর সবজি হিসাবে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজিনা ক্ষেত গড়ে তোলার জন্য উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে।





আর্কাইভ